বাঘায় নদীগর্ভে বিলীন বিদ্যালয় কলমাকান্দায় ভাঙনের মুখে ভবন

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বাঘা উপজেলায় পদ্মার চরাঞ্চলে অবস্থিত চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলিন হতে চলছে। ইতোমধ্যে চারটি পিলার পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। যে কোন সময় স্কুলটি নদীতে বিলিন হতে পারে। এদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বড়খাপন ইউনিয়নে নদী ভাঙনে রিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের সামনের যাতায়াতের রাস্তাটি নদীতে ভেঙে গেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠান খবরÑ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি জানান, দুই বছর পূর্বে বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে ৭৮ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছিল চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়। দেখতে দেখতে স্কুলটি এ বছর ভাঙ্গনের মুখে নদীতে বিলিন হতে চলেছে। ইতোমধ্যে চারটি পিলার চলে গেছে পদ্মার গর্ভে। ফলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। গতকাল সোমবার সকালে স্কুলসহ ভাঙ্গন কবোলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাসিমা খাতুন।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৮ সালে স্থাপিত চকরাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৪ বছরে ভাঙনের কবলে পড়েছে দুইবার। এবারও নদী ভাঙ্গণের কারণে ঠিক একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নতুন করে যোগ হয়েছে এ অঞ্চলের একমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চকরাজাপুর বাজার। গত ৫ দিন পুর্বে বিদ্যালয়ের টিনসেটের কমনরুমটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকেই ধারনা ভাঙ্গণ কমে গেলে এবারের মতো রক্ষা পাবে ইট দিয়ে তৈরী করা দামি ভবনটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও আর রক্ষা করা গেল না। ইতোমধ্যে নতুন ভবনের চারটি পিলার চলে গেছে নদীর গর্ভে। এখন দ্রুত এটি সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন।

এমতাবস্থায় স্কুল পরিদর্শন করতে আসেন রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোসা. নাসিমা খাতুন। আরো উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা, ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা দিল আফরোজ রুমি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল আযম ও বাঘা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামানসহ অনেকে।

নদী তীরবর্তী লোকজন জানান, যথাযথ উদ্যোগের অভাবে অত্র এলাকার প্রায় ৪ কিলোমিটার বাধ অরক্ষিত হয়ে আছে। গত ৭ বছরে পদ্মার ভাঙনে এইসব এলাকার প্রায় ৫০০ বাড়ি, ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার এবং বিজিবি ক্যাম্পসহ কয়েক হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি চলে গেছে পদ্মার করাল গ্রাসে। এ ছাড়াও ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে ৫-৬ পরিবার।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি জানান, জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভেঙে গেছে বিদ্যালয়ের সামনের যাতায়াতের রাস্তাটি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আঞ্জুরা খাতুন বলেন, বর্ষার সময় নদীতে জোয়ার বেড়ে গেলে বিদ্যালয় চত্বর প্লাবিত হয়ে যায়। ফলে এ সময় ক্লাস পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, শাখাই নদীর তীরবর্তী উপজেলার নাগারগাতী গ্রামের নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পানি কমতে শুরু করায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। শাখাই নদীর তীব্র ভাঙনের স্বীকার হয়ে ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টির সামনের চলাচলের রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেখাপড়া করে আসছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে।

অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়টি নদী তীরবর্তী হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অবিলম্বে এই ভাঙন প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুদৃষ্টি কমনা করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় শ্যামল কান্তি ভৌমিক জানান, বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবলে পড়লেও এখন পর্যন্ত ভাঙন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেয়নি। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়টির গাইড ওয়াল নির্মাণ করা না হলে বিদ্যালয়টি নদীতে বিলিন হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৯৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি ভাঙনের মুখে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করছে। তবে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় মধ্যে থাকেন।

বড়খাপন ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম হাদিছুজ্জামান হাদিস বলেন, গত ২০১৫ সালে ওই বিদ্যালয়ের সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক একটি জরুরি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছর অকাল বন্যায় নদীর তীব্র স্রোতে ওই বাঁধটি ভেঙে পড়ে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় আমি নতুন যোগদান করেছি। এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। তবে খোজ খবর নিয়ে দেখব এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"