ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ইবিতে ছাত্রী বহিষ্কার, মামলা

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ইবি প্রতিনিধি

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রলীগ নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে সাময়িক বহিস্কার করেছে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে এ বহিস্কার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। বহিস্কৃত ছাত্রী ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষে পড়েন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসন পরিপন্থি বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন।

গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষিত এক প্রজ্ঞাপনে ছাত্রীর বহিস্কারের তথ্য জানানো হয়। এছাড়া ‘আপত্তিকর’ স্ট্যাটাসের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন বাদি হয়ে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে মানহানি ও আইসিটি আইনে দুটি মামলা করেছেন। ইবি থানার ওসি রতন শেখ বিষয়টি নিশ্চত করেছেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী গত রোববার তার ফেসবুক ওয়ালে ছাত্রলীকে উদ্দেশ্য করে ‘নিষিদ্ধ পল্লিতে বেলুন দুর্ঘটনায়’ জন্ম নেওয়া সংগঠন হিসেবে অহিত করেন। এ ঘটনায় বহিস্কারের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ছাত্রলীগের লিখিত আবেদন কথা উল্লেখ করে জানান হয়, ‘স্ট্যাটাসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে কেবল অসম্মানিত করেনি বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আনুসারী সকলকে আহত করেছে।’ ছাত্রীকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

এ দিকে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ^বিদ্যালয় থেকে ছাত্রী বহিঃস্কারকে যৌক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন না বিশ^বিদ্যালয়ের একটি অংশের শিক্ষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ^বিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, ‘কেউ যদি কোন সংগঠনকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে মানহানি অথবা আইসিটি আইনে মামলা করা যেতে পারে। এর কারণে কোন শিক্ষার্থীকে বিশ^বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করার যৌক্তিকতা নেই। কারণ কোন সংগঠনকে বিরূপ মন্তব্য করা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের অধিকার সংশ্লিষ্ট বা এর আচারণ বিধিতে পড়ে না। এ রকম সিদ্ধান্ত নেয়াটা বিশ^বিদ্যালয়ের মত একটি স্বায়াত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নীতির পরিপন্থি।’ বিষয়টিকে ‘সেলুকাশ!’ মন্তব্য করে বিশ^বিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষক বশির আহমেদ ফেসবুকে লিখেন, ‘কুৎসিত কাজ করতে পারবে, অথচ কেউ বলতে পারবে না।’

মামলার বাদি ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে এদেশে তার থাকার কোন অধিকার নেই।’

"