লক্ষ্মীপুরে বিসিক শিল্প নগরী বেহাল

বন্ধ হওয়ার পথে বেশ কয়েকটি কারখানা

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্প নগরীর বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। শুরু থেকে এখনো বিসিক এরিয়ায় নাজুক যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকট রয়েছে। এতে করে কারখানা স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছে শিল্প উদ্যেক্তারা। ফলে এখন বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গাচোরা ও খানাখন্দের সড়ক মেরামতেও নেই কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ।

স্থানিয়রা জানান, লক্ষ্মীপুরের বেকার সমস্যার সমাধান ও শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় ১৬ একর ভূমির উপর সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৪ সালে সম্পন্ন হয় কাজ। এখানে তৈরী করা হয় তিন ক্যাটাগরির ১০০টি প্লট। এর মধ্যে ৫৮টি শিল্প প্রকল্পের অনুকূলে ৯৬টি প্লট বরাদ্ধ দেয়া হয়। এর মধ্যে এখন ২৬টি প্রকল্প চালু রয়েছে, ৪টি প্রকল্প উৎপাদন জনিত সমস্যার কারনে বন্ধ রয়েছে।

বিসিক প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। বেকারী, ওয়েল মিল, সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটো রাইচমিল, মবিল রি-প্যাকিং ফ্যাক্টরীসহ বর্তমান সময়ে বিসিক শিল্প নগরীতে শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। কিন্তু গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট ও পানির সমস্যার কারনে সেগুলো এখন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতে করে মালিকদের লোকশান গুনতে হচ্ছে বলে জানান সুলতানা বেকারীর মালিক আবুল কাশেম। আর নতুন শিল্প উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারিয়ে পেছনে হাঁটছেন বলে জানান শিল্প উদ্যোক্তা বেলাল আহমদ ও সেলিমসহ অনেকে। এদিকে পানির ট্যাংকি থাকলেও ১০ বছর ধরে সাপ্লাই বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টরা এর সুফল পাচ্ছেনা বলে জানান।

এছাড়া মুল ফটক থেকে শুরু করে বিসিক এলাকার সকল রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে খানাখন্দে পুরো রাস্তা এখন পরিণত হয়েছে যেন পুকুরে। পন্য আনা নেয়ায় বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে শিল্প মালিকদের। প্রায় সময়ে ঘটছে দূর্ঘটনা। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ঠিক মতো ময়লা নিষ্কাশন হচ্ছেনা। এতে করে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় যত্রতত্র ব্যবহারে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে ও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শ্রমিকরা।

এদিকে বিসিক কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর সার্ভিস চার্জ নিলেও তাদের বিরুদ্ধে অব্যবস্থপনা ও স্বেচ্ছারিতার অভিযোগ রয়েছে। বিসিক শিল্প নগরীর দায়িত্বরত প্রমোশন অফিসার ফাতেমা আক্তার বলেন, চলমান সমস্যা সমাধানে দুই কোটি টাকা বরাদ্ধ চাওয়ার পর মাত্র ১২ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। যা দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

"