দিনাজপুরে লোকোমোটিভ কারখানায় জনবল ও যন্ত্রাংশ সংকট

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানাটি (কেলোকা) প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রাংশ সংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানিয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শহর পার্বতীপুর বাসটার্মিনাল থেকে প্রায় ১ কি.মি. উত্তরে ১১১ একর জমিতে উপরে ১৯৯২ সালের প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা)। দেশের একমাত্র ভারী মেরামত কারখানা হিসেবে কেলোকা শুরু থেকে নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় প্রকৌশলী ও মেকানিকগণ পরিত্যক্ত ও অকেজো ইঞ্জিন মেরামতের মাধ্যমে ছল করে চমক সৃষ্টি করেছেন। তাদের কর্মদক্ষতা আরো সম্প্রসারিত হতো, যদি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, লোকবল নিয়োগ এবং চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম স্টোর থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা যেত। ২০১২ সাল থেকে পড়ে থাকা দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি ইঞ্জিন ভারী মেরামত করে আউটটার্ণ দেয়া হয়। যা বর্তমানে রেলের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) বহরে যুক্ত হয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রেখেছে। দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা আটটি প্যান্টস এন্ড মেশিনারিজ চালু করে কাজে লাগানো হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭২টি লোকোমোটিভ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব লোকোমোটিভ ছয় বছর পর পর একবার মেরামত বা ওভারহেলিং করার কথা। এর মধ্যে ১০৬টি ইঞ্জিন অর্থ সংকট ও মালামালের অভাবে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ৭০ ভাগ আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ ও ৩০ ভাগ মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে। ইঞ্জিনগুলো একেবারে চলাচলের অযোগ্য। তবুও জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য প্রায় প্রতিটি ইঞ্জিনে ৬টি ট্রাকশন মোটর থাকে। কিন্তু সেখানে তা নেই। অকেজোর স্থলে নতুন ট্রাকশন মোটর পুনঃস্থাপন করা হয়নি। ফলে এ অবস্থায় চলছে ইঞ্জিনগুলো। কারখানার মেরামত প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে প্রতি বছর কমপক্ষে ৭২ কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু বরাদ্দের পরিমাণ চার ভাগের এক ভাগ মাত্র। এ কারখানায় মঞ্জুরীকৃত জনবল ৫৪৫, কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছে মাত্র ২৩৭ জন। ৫৫ শতাংশ ঘাটতি জনবল দিয়ে কারখানার দক্ষ শ্রমিক, কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কারণে পূর্বের মতই ইঞ্জিন আউটটার্ণ অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে। ভারত থেকে মালামাল পরিবহনের জন্য লোকোমোটিভে কেলোকার নিজস্ব প্রযুক্তিতে সিবি কুপলার সংযোজন করা হয়েছে। ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে।

কারখানা সূত্র মতে, দ্রুত এ কারখানায় জনবল নিয়োগ করা না হলে আগামী ২০২৫ সালে জনবল দাড়াবে মাত্র ৮২ জনে। যা মঞ্জুরীকৃত জনবলের ১৫ শতাংশ মাত্র। এদিকে জনবল সংকটের কারণে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে স্বল্প মঞ্জুরীতে ‘কাজ নেই মজুরী নেই’ হিসেবে নেয়া টিএলআর শ্রমিকদের মাধ্যমে কারখানাটি সচল রাখা হয়েছে। অতিদ্রুত জনবল নিয়োগ করা না হলে কারখানাটি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তাছাড়া সময়মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ না থাকায় ইঞ্জিন মেরামতের জটিতলার সৃষ্টি হচ্ছে। ইঞ্জিন সচল না থাকলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা যে বিপর্যয় হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এ কারণে কারখানাটিকে অবশ্যই চালু রাখতে হবে। এ জন্য জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বাৎসরিক বাজেট বাড়াতে হবে।

"