ঢাকার বাইরে বোর্ডভিত্তিক এইচএসসির ফল

পাসের হার বেড়েছে ৩ বোর্ডে

এগিয়ে বরিশাল, শেষে সিলেট

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ঢাকার বাইরে ৭টি বোর্ডে ৪টি বোর্ডে পাসের হার কমেছে, কমেছে ৩টি বোর্ডে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফল। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বোর্ডভিত্তিক ফল চিত্র।

বরিশাল : বরিশাল মাধ্যমিক ও উচমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম জানান, এ বছর পাসের হার ৭০.৫৫। গত বছরে ছিল ৭০.২৮। এ বছর ৩৩৩টি কলেজের ১১৬টি কেন্দ্রে ৬২ হাজার ১৭৩ জন পরীক্ষার্থী ছিল। যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭০ জন। গড় পাসের হারে এবং জিপিএ-৫ বেলায় এবারও ছেলেদের থেকে মেয়ে পরীক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। মেয়েদের পাসের হার ৭৬.০০ ও ছেলেদের পাশের হার ৬৫ দশমিক ৩৫। ফলে গত বছরের থেকে এ বছর মেয়েদের পাসের হার বেড়েছে ২ দশমিক ৬৫। ছেলেদের পাসের হার কমেছে ১ দশমিক ৯৯ ভাগ।

এদিকে গত বছরের মতো এ বছরেও মেয়েরা ছেলেদের থেকে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে। মোট ৩৭০ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেলেদের মধ্যে পেয়েছে ৩০০ জন। এছাড়াও বিষয় ভিত্তিতে পাসের হারে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায়ও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। জেলাভিত্তিক পাসের হারে বরিশাল জেলা ৭৬ দশমিক ৩০ ভাগ পাস করে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা আইডিয়াল কলেজ ও পটুয়াখালীর পশুরবুনিয়া ইসলামিয়া মহিলা কলেজে পাসের হার শূন্য রয়েছে। এ দুই স্কুল থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কেউ পাস করেনি বলে জানিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম।

কুমিল্লা : কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের তুলনায় বেড়েছে পাসের হার। ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৪৯.৫২ শতাংশ। এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫.৪২ শতাংশে। এবার কুমিল্লা বোর্ডেও অধীন ৬টি জেলার ৩৮১টি কলেজ থেকে ১ লাখ ৩ হাজার ৬৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন। তার মাঝে ৬৭ হাজার ৮২০ জন উত্তীর্ণ হয়। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৮ হাজার ৬৭৬ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ২৪ হাজার ৭৭৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৪ হাজার ৩৭১ জন পাস করেছে। কুমিল্লা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৪৪ জন।

কুমিল্লা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার বোর্ডের অধীন ৩৮১টি কলেজের মাঝে মাত্র দুইটি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। কলেজ দুইটি হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর আবদুল জাব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর কলেজ।

রাজশাহী : রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৪.৭৯ শতাংশ। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। গতবার পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৩০। শুধু তাই নয়, কমেছে জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও। আগের বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ২৯৪ জন। এবার পেয়েছে ৪ হাজার ১৩৮ জন। গতকাল দুপুরে শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিদর্শক দেবাশীস রঞ্জন রায়, ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, উপসচিব ওয়ালিদ হোসেন, উপকলেজ পরিদর্শক মঞ্জুর রহমান খান, উপ পরিসংখ্যা লিটন সরকার প্রমুখ।

যশোর (খুলনা) : এইচএসসি পরীক্ষার ফলে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে খুলনা জেলা সবার শীর্ষে রয়েছে। পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ ভাগ। গত বছর ছিল ৭৮ দশমিক ৬৬ ভাগ। এদিকে ফলে খুলনা সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ সেরা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রাপ্ত ফলে দেখা গেছে, এবার খুলনা জেলার ৯৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২২ হাজার ৬৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৯৮০ জন পাস করেছে।

খুলনার সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ জেলার মধ্যে সবার শীর্ষে রয়েছে। এ কলেজ থেকে ৮১৯ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৫ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯৮ ভাগ। গত বছরও এই কলেজটি জেলার মধ্যে প্রথম হয়। সূত্র মতে, এবার খুলনার পর যশোরের পাসের হার ৬৩ দশমিক ৯৫ ভাগ, কুষ্টিয়ার পাসের হার ৬১ দশমিক ৪২ ভাগ, সাতক্ষীরায় ৫৯ দশমিক ৯৬ ভাগ, বাগেরহাটে ৫৯ দশমিক ৬৭ ভাগ, ঝিনাইদহে ৫৭ দশমিক ৯৭ ভাগ, চুয়াডাঙ্গায় ৫২ দশমিক ৯০ ভাগ, মেহেরপুরে ৫২ দশমিক ৬৯ ভাগ, নড়াইলে ৫২ দশমিক ৫৬ ভাগ ও মাগুরায় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪০ ভাগ নিয়ে যথাক্রমে ফলের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধিনে এ দশটি জেলা।

সিলেট : বিগত একযুগের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। তবে ফলে খারাপ করলেও মেধাবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কবির আহমদ।

দেশের ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবার সবার পেছনে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এ বছর পাসের হার মাত্র ৬২ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৭৩ জন শিক্ষার্থী। গেল বছর ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৩ শতাংশ। তবে পরীক্ষার্থী ও পাসের হারের ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে সিলেটের মেয়েরা এগিয়ে আছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে এবার ৭১ হাজার ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ৪৪ হাজার ১২৭ জন। শতভাগ পাস করেছে ১০টি কলেজ।

এছাড়া এ বছর দুইটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি। এ দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের উত্তর সুরমা আছমত উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে এবং মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার নুরুন্নেছা খাতুন চৌধুরী কলেজ।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। বোর্ডটিতে পাস করেছে ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬১ দশমিক ০৯ শতাংশ। এবার বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৬১৩জন। গত বছর ছিল ১ হাজার ৪১৪জন। চট্টগ্রাম নগরীসহ, চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার ২৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৭ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬০ হাজার ৭৫৫ জন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান জানান, পাসের হার গত বছরের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। বলা যেতে পারে, এবার সামান্য উন্নতি হয়েছে। জিপিএ-৫ও সামান্য বেড়েছে। তবে সার্বিক ফলে আমাদের সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনও জিপিএ ৫ পায়নি।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ২৫৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে এমন কলেজের সংখ্যা ১৭৪টি। এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে, মহানগরের কলেজগুলোর চেয়ে জেলা অনেক পিছিয়ে আছে।

দিনাজপুর : দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয় ঘটেছে। গত সাত বছরের তুলনায় এবার এই বোর্ডের পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা একবারে সর্বনি¤œ।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০৭ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭১ হাজার ৯৫১ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৯১ জন।

গত বছর এই পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭০ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৭৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৭১ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।

অপরদিকে এবার ২ হাজার ২৯১ জন জিপিএ-৫ পেলেও গত বছর জিপিএ-৫ পায় ২ হাজার ৯৮৭ জন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ২২ শতাংশ। আর ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৪৪ জন এবং ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫৩ জন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৬৫৩টি কলেজের মধ্যে ১২টি কলেজ থেকে এবার কেউই পাস করতে পারেনি।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে পাসের হার হ্রাস পেয়েছে। এবার ময়মনসিংহের সেরা ১০টি কলেজ থেকে ৮৩৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজে ৫০ জনের সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ জন। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে ১ হাজার ২২৬ জনের মাঝে পাস করেছে ১২০৬ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪২ জন, পাসের হার ৯৮.৩৭ শতাংশ। সরকারি মুমিনুন্নিসা কলেজে ৯৫০ জনের মাঝে পাস করেছে ৯৩৩ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯৫ জন, পাসের হার ৯৮.২১ শতাংশ। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫০৭ জনের মাঝে পাস করেছে ৪৯৪ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ জন, পাসের হার ৯৭.৪৪ শতাংশ। কৃষি বিশ^বিদ্যায় কলেজে ৭৩৪ জনের মাঝে পাস করেছে ৭০০ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৭ জন, পাসের হার ৯৫.৩৭ শতাংশ। সরকারি আনন্দমোহন কলেজে ৯২৭ জনের মাঝে পাস করেছে ৮০৩ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৭ জন, পাসের হার ৮৬.৬২ শতাংশ। নটরডেম কলেজে ৭৭৭ জনের মাঝে পাস করেছে ৬৭৯ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন, পাসের হার ৮৭.৩৯ শতাংশ। অ্যাডভান্স রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে ৪৬৯ জনের মাঝে পাস করেছে ৪৩৭ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ০২ জন, পাসের হার ৯৩.১৮ শতাংশ। আলমগীর মুনসুর মেমোরিয়াল কলেজে ৭৬৮ জনের মাঝে পাস করেছে ৬৬৬ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ০৫ জন, পাসের হার ৮৬.৭২ শতাংশ। মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬৯১ জনের মাঝে পাস করেছে ৫৩৯ জন, এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ০১ জন, পাসের হার ৭৮.০০ শতাংশ। এছাড়াও শহরের আকুয়ায় ময়মনসিংহ সরকারি কলেজে ৫২১ জনের মাঝে পাস করেছে ২৮৩ জন, এর মধ্যে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি, পাসের হার ৫৪.৩২ শতাংশ।

"