কোম্পানীগঞ্জে মরিচা ধরা রডে আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

গিয়াস উদ্দিন রনি, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী)

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ২ কোটির অধিক টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আশ্রয় কেন্দ্রে মরিচা ধরা রড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু এই রডে বাতাস প্রবাহিত হয়ে ছাদ ও দেয়ালের দীর্ঘস্থায়িত্ব নষ্ট হবে। ফলে অল্পমাত্রার ভূমিকম্পেও ভবনধসের আশঙ্কা আছে বলে জানাচ্ছে স্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিবাদ করলেও তা কানে তুলেনি কেউ। সরেজমিনে এর সত্যতা পাওয়া গেলে ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, শিডিউলে রডের গ্রেড লিখা থাকালেও কোন কোম্পানির রড ব্যবহার করতে হবে তা উল্লেখ করা নেই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে উপজেলার চরহাজারী ইউপির ৮নং ওয়ার্ডে চরহাজারী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এই বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে মেসার্স শাহীন ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া কাজ আগামী বছরের শুরুতে শেষ হওয়ার কথা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৭৮০.০৮ বর্গমিটারের (তিনতলা) বিশিষ্ট ও ১২০০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকারি শিডিউল অমান্য করে মরিচা ধরা নিম্নমানের রড ব্যবহার করছে। কাজের একেবারে শুরুতেই তারা নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে কাজের সূচনা করে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সাইজের মরিচা ধরা নিম্নমানের লোহার রড দিয়ে ভবনের মূল ভিত্তি স্থাপন, বেজ ঢালাই ও প্রথমতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানেও মরিচা ধরা রড স্তূপ করেছেন নির্মাণাধীন ভবনের সামনে। মরিচা ধরে রডগুলো তার প্রকৃত রূপ হারিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু দামে সস্তার কথা চিন্তা করে মরিচা ধরা রড ব্যবহার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে স্থাপনার বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ মরিচা ধরা রডে বাতাস প্রবাহিত হয়ে ছাদ ও দেয়ালের দীর্ঘস্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অল্পমাত্রার ভূমিকম্প হলেও ভবনধসে পড়তে পারে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভবন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট কাজের তদারকির ক্ষেত্রে শুধু মাত্র ছাদ ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দেখা মিলে। ছাদ ঢালাইয়ের পর আর কারো দেখা পাওয়া যায় না।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সূত্র জানায়, ২ কোটি ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৯ টাকা বরাদ্দে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর কর্তৃক চরহাজারী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গেলে, নির্মাণাধীন আশ্রয় কেন্দ্র সামনে প্রচুর মরিচা ধরা রডের স্তূপ এবং মরিচা ধরা রড পাওয়ায় যায়। জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প তদারক জানান, রডে মরিচা ধরেছে সত্য তবে রড নিম্নমানের নয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে আশ্রয় কেন্দ্রের এক নির্মাণ শ্রমিক জানান, রডগুলো মানসম্পন্ন নয়। মাদ্রাসায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী আছে জানিয়ে শিক্ষক মো. দুলাল প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, কয়েক মাস আগে প্রথম ছাদ ঢালাইয়ের পর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঠিকদারকে ভালো রড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন তারা ভালো রড দিচ্ছে বলে দাবি করেন।

শিডিউল অনুযায়ী ৫০০ গ্রেড ও ৪০০ গ্রেডের রড ব্যবহার করার কথা জানিয়ে মেসার্স শাহীন ট্রেডার্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আবুল আজাদ সুজন জানান, ভবন নির্মাণে শিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কোন কোম্পানির রড ব্যবহার করতে হবে তা শিডিউলে উল্লেখ করা নেই। গ্রেড উল্লেখ করা আছে, আমরা রডের গ্রেড বজায় রেখে কাজ করছি। রডে মরিচা ধরার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, রডে মরিচা পড়েনি বৃষ্টির কারণে হালকা লালচে দাগ পড়েছে।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম দাবি করেন, রডগুলো বুয়েট টেস্ট করা। এরপরও যদি রডে মরিচা ধরে অথবা নিম্নমানের সামগ্রীতে নির্মাণ কাজ করা হয় তাহলে অবশ্যই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"