অফিস সহকারীকে মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কমল কৃষ্ণ মজুমদারকে মারধর করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করান ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল চৌধুরী। গত শুক্রবার কলাগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কমল কৃষ্ণ মজুমদার কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি গ্রহণ করেনি।

স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার কলাগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভা নোটিশ বইয়ে না করে স্কুলের প্যাডে ডাকেন। এ কারণে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্যরা সভা বয়কটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সভায় অভিভাবক সদস্য পাঁচজনের কেউই উপস্থিত হননি। এমনকি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদও সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। সভার দিন গত শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অফিস তালাবদ্ধ ছিল। ওই দিন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল চৌধুরী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি অফিস সহকারী কমল কৃষ্ণ মজুমদারকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ খুলে দিতে বলেন। কিন্তু অফিস সহকারী কমল কৃষ্ণ তার কাছে চাবি নেই বলে জানালে দুলাল চৌধুরী ও তার সহযোগীরা অকথ্য ভাষায় তাকে গালাগাল করে মারধর করেন এবং জোর করে পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেন। এ ঘটনায় কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কমল কৃষ্ণ মজুমদার জিডি করতে গেলে পুলিশ তার জিডি গ্রহণ করেনি।

কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদি হাসান জানান, অফিস সহকারী কমল কৃষ্ণ ফাঁড়িতে এসেছিল। তবে তিনি নিজেই গলাচিপা থানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মু. হালিম মিয়া জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে কমল কৃষ্ণ তাকে জানিয়েছে। উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ সমিতি বরাবর লিখিত আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

"