নবাবগঞ্জের বাংলাবাজার

‘ব্রিজ হলে এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে’

প্রকাশ | ১৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

ইমরান হোসেন সুজন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জ, ঢাকার সাভার, ধামরাই এবং এয়ারপোর্ট যাওয়ার সহজ সড়কপথ হচ্ছে বান্দুরা থেকে বাংলাবাজার হয়ে জামশা সড়কটি। অথচ বান্দুরা-বাংলাবাজার-জামশা সড়কটি মাত্র একটি ব্রিজের অভাবে যথাযথ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। উপজেলা নয়নশ্রী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত এই খালটি বাংলাবাজারকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। বান্দুরার ইছামতি নদী হতে শুরু হয়ে বালুখ-ের কালিগঙ্গা নদীতে মিলিত হয়েছে খালটি। খালটির ওপর কোনো ব্রিজ না থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালটিতে কোনো পানি নেই। খালের মধ্যে মাটি ফেলে অস্থায়ী কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ খালের দুই পাশে পাকা সড়ক। কয়েকটি অটো ঝুঁকি নিয়ে কাঁচা সড়কটি দিয়ে খালটি পাড় হচ্ছে। অটোগাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারলেও খালের ওপর ব্রিজ না থাকায় বড় কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। নয়নশ্রী ইউপির ২নং ওয়ার্ডের সদস্য রশিদ বলেন, রাস্তাঘাট ভালো হওয়ার পরও বাংলাবাজার খালের ওপর কোনো ব্রিজ না থাকায় বান্দুরা থেকে সরাসরি মানিকগঞ্জের জামশা যাওয়া যায় না। অথচ এই রাস্তাটি দিয়ে কিন্তু সহজে নবাবগঞ্জ ও দোহারবাসী অল্প সময়ে মানিকগঞ্জ ও সাভারে যেতে পারবে। এই একটি মাত্র খাল আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে পুরো এলাকার চিত্রই পাল্টে যেত।

স্থানীয় বাসিন্দা কুয়েত প্রবাসী হারুন-অর-রশিদ বলেন, এয়ারপোর্টে যেতে হলে নবাবগঞ্জ হয়ে কেরানীগঞ্জ ঘুরে যেতে হয়। অথচ ব্রিজটি হলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এয়ারপোর্টে পৌঁছাতে পারব। এখন এয়ারপোর্টে যেতে আমাদের ৩/৪ ঘণ্টা লাগে।

বাংলাবাজার মডার্ন কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষক ইউসুফ রানা বলেন, বাংলাবাজারের উত্তর পাশ থেকে অনেক শিক্ষার্থীরা আমাদের স্কুলে পড়তে আসে। শুষ্ক মৌসুমে অসুবিধা না হলেও বর্ষা ও বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের আসতে খুব কষ্ট করতে হয়।

অটোরিকশা চালক মজনু মিয়া বলেন, আমরা যাত্রী নিয়ে বান্দুরা থেকে এসে বাংলাবাজার খালের এপার নামিয়ে দেই। যাত্রীদের আবার খাল পাড় হয়ে উত্তর পাশে দিয়ে অটোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ব্রিজটি হলে আমরা সরাসরি জামশা যেতে পারতাম। বিলপল্লির কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, ব্রিজটি না থাকায় আমরা সবজি নিয়ে জামশা বাজারে যেতে পারি না। বান্দুরা বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার মানিকগঞ্জের সিংগাইরের কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত সবজি নবাবগঞ্জ নিতে পারে না ব্রিজটির অভাবে। নয়নশ্রী ইউপি চেয়রম্যান রিপন মোল্লা বলেন, নবাবগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি শুধু মাত্র একটি ব্রিজের কারণে যথাযথ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আমি এমপি মহাদয় ও উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি অতি শিগগিরই ব্রিজটির ব্যাপারে সুখবর পাব।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, বাংলাবাজার খালের ওপর ব্রিজের ব্যাপারে আমি অবগত। পর্যায়ক্রমে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।

"