নবীগঞ্জে একই পণ্যের বাজারভেদে ভিন্ন দাম

সিন্ডিকেটের অভিযোগ ক্ষুব্ধ ক্রেতা

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
ama ami

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। একেক বাজারে একেক দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিচ্ছে। যে পণ্য ২০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, বাজার বদল হলেই তার মূল্য দাঁড়িয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে এই অবস্থা তৈরি হচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। অন্যদিকে অতিরিক্ত টাকায় পণ্য ক্রয় করতে বাধ্য হওয়া প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। উপজেলার অধিকাংশ বাজার ঘুরে এই অবস্থা দেখা যায়। তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় বাজারের অভিযান চালায়নি বলে উপজেলা প্রশাসনের দাবি।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ১৫-২০টি বাজার রয়েছে। এ সব বাজারে উপজেলার প্রায় পৌনে ৪০০ গ্রামের কয়েক লাখ লোকজন বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী ক্রয় করেন। কিন্তু পণ্যসামগ্রী ক্রয়ে একেক বাজারে একেক দাম নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্রেতাদের মনে রয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।

উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের আয়াত আলী হতাশা প্রকাশ করে জানান, তিনি স্থানীয় কামারগাঁও বাজার থেকে এক কেজি আলু কিনেছেন ২৫ টাকা দিয়ে। একই আলু আউশকান্দি বাজারে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৩০ টাকা। আবার স্থানীয় সৈয়দপুর বাজার থেকে দুই কেজি পেঁপে কিনেছেন ৬০ টাকা দিয়ে। কিন্তু একই পেঁপে নবীগঞ্জ বাজারে ক্রয় করতে চাইলে ব্যবসায়ী তার কাছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা জানায়।

একই ধরনে অভিজ্ঞতা উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের ফুটারচর গ্রামের হারুন মিয়ার। প্রতিদিনের সংবাদকে হারুন মিয়া জানান, তিনি একটি দেশি কুমড়া স্থানীয় গোপলার বাজার থেকে ক্রয় করেন ৩০ টাকা দিয়ে, একই সমান কুমড়া আউশকান্দি বাজার থেকে ক্রয় করেন ৫০ টাকা দিয়ে। ভুক্তভোগী ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশা লোকজনদের দাবি, এ সব বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা রোধ করা সম্ভব। নতুবা দিন দিন তাহা ব্যাপকভাবে আরো বাড়তে থাকবে। জানতে চাইলে আউশকান্দি বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আরশ মিয়া বলেন, কাঁচামাল ব্যবসার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কোনো সিন্ডিকেট নেই। কারণ হচ্ছে, তারা হাট থেকে একেক দিন একে দামে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে আনেন। এর জন্য চড়া দামে বিক্রি করতে হয়। নবীগঞ্জ বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী কাছুম আলী বলেন, অনেক পণ্যসামগ্রী যেমন-আমড়া, কুমড়া, শশা, বেগুন গ্রাম থেকে লোকজন আনেন এর জন্য তারা কম দামে বিক্রি করতে পারেন। তবে এই দুই ব্যবসায়ী একটা পণ্য একই দিনে বাজার ভেদে ভিন্ন হওয়ার কারণ সম্পর্কে সদুত্তর দিতে পারেননি।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ বিন-হাসান জানান, এ ব্যাপারে তার কাছে কোনো অভিযোগ নেই। এ ছাড়া কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কখনো অভিযান পরিচালনা হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

"