আড়াইহাজার পৌর নির্বাচন

সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চান ভোটাররা

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আব্দুল আলীম, নারায়ণগঞ্জ

দ্বিতীয়বারের মতো পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছে অংশ নিতে যাচ্ছে আড়াইহাজার পৌরবাসী। ২০১২ সালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভোটে মেয়র নির্বাচিত করে ছিলেন তারা। কিন্তু জনগণের চাহিদার সিকি ভাগও পূর্ণ হয়নি পাঁচ বছরে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়।

আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এ পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচন। অবশ্য ভোটের আগেই এসব সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চান এলাকাবাসী। তারা চান জলাবদ্ধতা নিরসন ও বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হোক। গতকাল বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে এই প্রতিবেদকের কাছে এমন মনোভাব ব্যক্ত করেন তারা।

২০১২ সালে সাত দশমিক ৯২ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে গঠিত হয় আড়াইহাজার পৌরসভা। ‘গ শ্রেণির এই পৌরসভায় ওয়ার্ড ৯টি। বর্তমানে পৌরসভার ভোটার ২০ হাজার ৬৭৮ জন। ২৫ জুলাই অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে মেয়র পদে দুইজন, কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী। বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি পারভীন আক্তার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এখনো পৌরসভার ১৩ কিলোমিটর সড়ক কাঁচা। পাঁচ কিলোমিটার সড়কে ইট বিছানো হয়েছে আর ১০ কিলোমিটার সড়কে আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ১০ কিলোমিটার সড়কে পিচ ঢালা।

পৌরবাসী জানান, পৌরসভায় এখনো উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। পৌর এলাকার অধিকাংশ জমিতে চাষাবাদ করা হয়। ড্রেনেজ সিস্টেম (পানি নিষ্কাশনের নালা) না থাকায় নিউমার্কেটের পেছনের ও লাসাদি মহল্লার মানুষ জলাবদ্ধতায় মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পৌর এলাকার কোথাও সড়কবাতি নেই। সন্ধ্যার পর অন্ধকারাচ্ছন্ন পৌর এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধের ঘটনা ঘটে। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। মশার উপদ্রবে মানুষ অতিষ্ঠ। এখনো পৌরসভার নিজস্ব ভবন হয়নি। পৌরবাসীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে গ্যাস সংকট।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সোনারগাঁ আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আড়াইহাজার পৌর এলাকায় তাদের বৈধ গ্রাহক ৭০০-এর মতো। তিতাসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পৌর এলাকায় অধিকাংশ মহল্লায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিয়ে রান্নার কাজ চলছে। এ ছাড়া বৈধ ও অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া মহল্লাবাসী সময় সময় গ্যাস পান না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় নারীরা খুব কষ্টে আছেন।

দাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রবিউল বলেন, আমরা বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ পাই না। এখানে অনেকেই অবৈধ সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করে। এবারের নির্বাচনে যে প্রার্থী আমাদের বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন, তাকেই আমরা ভোট দেব।

এ বিষয়ে জানতে বর্তমান মেয়র হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে হাবিবুর নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী সুন্দর আলী বলেন, আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই নীত্যদিনের জনদুর্ভোগ নিরশনে গ্যাস, বিশুদ্ধ পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়ক বাতির ব্যবস্থা করব। এলাকার জনগণ যাতে নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে তার জন্য যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় সব করব।

অপর দিকে বিএনপির প্রার্থী পারভীন আক্তার বলেন, আমি নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করব। রাস্তাঘাট, অবকাঠামোসহ পৌরবাসীর প্রতিটি সমস্যার সমাধান করব।

"