চাঁদপুরে দুটি সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরমে

* গ্যাস সংগ্রহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা * দিতে হচ্ছে গাড়ির জমা টোল এবং নানা রকম চাঁদা * ছোট যানবাহনে যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়ার খড়গ! * সুযোগ বুঝে আদায় করা হয়ে দ্বিগুণ ভাড়া

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে এই রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনগুলো। বিশেষ করে স্কুটার এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক এবং যাত্রীদের অধিক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে শহরের আমির হোসেন এবং হাজীগঞ্জের মান্নান সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় জেলার সব উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ ও রায়পুরের একাংশ এলাকার সিএনজি ও স্কুটারগুলো গ্যাস সংগ্রহ করে বিপাকে পড়েছে।

গাড়ি চালকরা জানান, দুটি সিএনজি স্টেশন বন্ধের কারণে দুই জেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক সিএনজি, স্কুটার এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশারগুলো অপর তিনটি স্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ কারণে গ্যাস নিতে এসে লম্বা সিরিয়াল মুখোমুখি হতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে বসে থাকতে হয়। অনেক সময় দিনের অর্ধেক সময়ও পার হয়ে যায়। ফলে গাড়ির জমা (ভাড়া) তুলতে হিমশিম খেতে হয় চালকদের। তাই যাত্রীদের ওপর নেমে আসে বাড়তি ভাড়ার খড়গ। অপরদিকে সময় মতো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।

গত কয়েকদিন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাজীগঞ্জ থেকে বাকিলা ১৫ টাকা ভাড়ার স্থলে ২০ টাকা, মহামায়া ২০ টাকার স্থলে ৩০-৪০ টাকা এবং চাঁদপুরে ৪০ টাকার স্থলে ৬০-৮০, এমনকি মাঝেমধ্যে ১০০ টাকা উঠে যাচ্ছে ভাড়া। এ ছাড়া হাজীগঞ্জ থেকে বেলচোঁ-সেন্দ্রা ১০ টাকার স্থলে ২০ টাকা, মনতলা-ফকির বাজার ১৫ টাকার স্থলে ২৫-৩০ টাকা এবং রামগঞ্জ ৪০ টাকার স্থলে ৬০-৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আরো বিভিন্ন উপজেলার ভিত্তিতে লোকাল (স্থানীয়) সড়কেও ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত এমনকি দ্বিগুণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন চালকরা।

জানতে চাইলে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মিজানুর রহমান বলেন, গ্যাস নিতে এসে ন্যূনতম দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় দিনের অর্ধেক সময়ও পার হয়ে যায়। এতে গাড়ির জমা, পৌর টোল, বিভিন্ন চাঁদা এবং নিজের খাওয়ার টাকা উঠে না। বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেকে বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকেন।

সিএনজি স্টেশন দুটি বন্ধের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড চাঁদপুর অফিসের ম্যানেজার মহিবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, হাজীগঞ্জের মান্নান সিএনজি স্টেশনটি বন্ধ করেছে কুমিল্লা অফিস। তাদের মিটার টেস্টিংয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আর চাঁদপুর শহরস্থ আমির হোসেন স্টেশনের গ্যাস বিল বকেয়া থাকার কারণে তাদের মিটার খুলে আনা হয়েছে।

যাত্রীরা জানান, যাতায়াতে সুবিধা এবং চাওয়া মাত্রই পাওয়া যায় এমন ছোট যানবাহনগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে। এতে এক দিকে যেমনি বেড়েছে সুবিধা, অন্যদিকে বেড়েছে দুর্ভোগ। মাঝে মাঝে ছোট এই যানবাহনগুলোর চালকদের স্বেচ্ছাচারিতায় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়। বিশেষ করে ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আজহা, অবরোধ/ হরতাল, টানা বৃষ্টি, বিভিন্ন পাবলিক ও নিয়োগ পরীক্ষার সময়কালীনসহ বিভিন্ন সময়ে সুযোগ বুঝে চালকগন যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে থাকেন। এতে চরম দুর্ভোগ এবং অনেক যাত্রীদের বিপাকে পড়তে হয়।

এ দিকে ছোট এই যানবাহনগুলোর চালকদের কাছে সাধারণ যাত্রীরা দিনের পর দিন এবং বছরের পর বছর হয়রানি ও তাদের স্বেচ্ছাচারিতার স্বীকার হলেও যেন সমাধানের পথ নেই। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হলেও ন্যূনতম উপকার হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ যাত্রীরা। তারপরও তারা আশায় আছেন, হয়তো একদিন সমাধান হবেই হবে।

"