কাঁচা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ

স্বপ্নপূরণ হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাঁচা নদীর ওপর তৈরি হচ্ছে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু। এর মাধ্যমে স্বপ্নপূরণ হতে চলছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর। পদ্মা সেতুর সঙ্গে প্রায় একই সময় বেকুটিয়া সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্ট তথ্য সূত্রে জানা যায়, ৯৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার দেবেন ৬৫৫ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ ব্যয় করবেন বাংলাদেশ সরকার। এ ছাড়া নির্মাণ কাজে বিদ্যুৎ, মাটি ভরাট এবং চীনের প্রকৌশলীরাসহ চীনা কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল মেয়াদে সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।

সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকে ঘিরে কর্মব্যস্ত সময় পার করছে সেতু এলাকার শ্রমিকরা। চীনা প্রকৌশলী এবং বাঙালিরা যৌথভাবে এর সঙ্গে যুক্ত। নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মেশিন ও মালবাহী যানবাহনের আনাগোনায় কর্মমূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাটিতে। বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রী রাখা ও শ্রমিকদের থাকার জন্য ফিল্ড তৈরি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আজমির হোসেন জানান, আমরা দ্রুত গতিতে সেতুর কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। চীনের আর্থিক সহায়তায় বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের বেকুটিয়া কাঁচা নদীর দুই পাশের জমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, স্থাপনা অপসারণের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি আরো জানান, চীন সরকারের অনুদানে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে শুনে বরিশাল এবং খুলনা বিভাগের কোটি মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

এ দিকে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান গত ৭ নভেম্বর ১৭ প্রেরিত এক পত্রে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন বলে জানা যায়।

সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্ট তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২০১৬ সালের ১৬ জুন রাজধানীর সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পরিমল বিকাশ সূত্রধর এবং চীন সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এজেন্সির ডেপুটি ডিরেক্টর জিয়াং জিং অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

"