কোম্পানীগঞ্জে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

গিয়াস উদ্দিন রনি, কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী)

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাজের একেবারে শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিন্মমানের সিমেন্ট দিয়ে কাজের সূচনা করে এবং নিন্মমানের বিভিন্ন সাইজের রড এনে স্তূপ করেছে। স্তূপ করা রডে মরিচা ধরেছে।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, এ প্রকল্পের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিডিউল অবমাননার কারণে বিদ্যালয়ের আঙিনা বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভিতর নির্মাণকাজ শুরু করার কথা। কিন্তু কাজ শুরুর ৪০ দিন পরও নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ২০০ কোমলমতি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে।

কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কোম্পানিগঞ্জ এলজিইডির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নকল্পে কাজের দায়িত্ব পান মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার চরকাঁকড়া ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের ১নং চরকাঁকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের শুরুতেই ঠিকাদার একেবারে যেনতেন নিন্মমানের সিমেন্ট দিয়ে কাজের সূচনা করেন। মরিচা ধরা রড স্তূপ করেছেন নির্মাণাধীন ভবনের সামনে।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গেলে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান আরিফ জানান, নিন্মমানের সিমেন্ট দিয়ে কাজ করার সময় সিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে মরিচা ধরা রড ব্যবহার না করে সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প তদারক জুয়েল মাহমুদ।

এ বিষয়ে তমা কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোশারেফ হোসেন জানান, ভবন নির্মাণে সিডিউল অনুযারী উন্নতমানের সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে সিমেন্টে সাময়িক কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে। রডে মরিচা পড়ার বিষয়ে তিনি দাবি করেন হয়তো বৃষ্টির কারণে রডগুলোতে মরিচা পড়েছে। প্রয়োজনে রড ল্যাব টেস্ট্রে পাঠানো হবে। তবে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হয়তো কোনো কারণে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়নি।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইব্রাহীব খলিল জানান, রডে বেশি মরিচা ধরায় রডগুলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণাধীন ভবনে ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছে। নিন্মমানের সিমেন্ট সম্পর্কে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে সবচেয়ে উন্নতমানের সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যা সাত-আট দিন বাইরে থাকলে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। সিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দুই দিনের মধ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

"