শিবচরে নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

মো. রফিকুল ইসলাম রাজা, শিবচর (মাদারীপুর)

মাদারীপুরের শিবচরে চর জানাজাত এলাকায় নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, পদ্মা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চল হওয়ায় প্রতি বছরই উপজেলার চর জানাজাত এলাকাটি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। এর ফলে এলাকার সাধারণ জনগণের ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্রছাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে। পূর্বেই এ এলাকার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোত হওয়ায় এ বছরও এই অঞ্চলের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ার পথে। দু’একদিনের মধ্যে পুরো বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এ জন্য ভবনটি সরানোর কাজ চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুম এলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনচিত্র অনেকটাই পাল্টে যায়। দিনের বেশিরভাগ সময় নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। শিবচর উপজেলার চর জানাজাত ইউনিয়নের প্রায় অংশই এখন নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এক সময়ের শত শত বিঘা জমির মালিকরা আজ নিঃস্ব হয়ে অন্য এলাকায় অপরের জমিতে বসতবাড়ি তুলে কোনো রকমে বসবাস করছেন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ রাশিদা বেগম জানান, কোনো এক সময় আমার স্বামীর ৪০-৫০ বিঘা জমি ছিল। আজ আমাদের এক বিঘা জমিও নেই। পদ্মা নদী আমাদের সব জমি কেড়ে নিয়েছে। এখন আমরা পরের জমিতে কোনো রকমে ঘর তুলে বসবাস করছি। চর জানাজাত ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল হান্নান জানান, বর্ষা মৌসুমে এলে আমাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়। সারাদিন দুশ্চিন্তায় থাকি এই বুঝি নদী ভাঙনে আমাদের ভিটেমাটি নিয়ে যাবে। চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহামুদ জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে খুবই কষ্টের সঙ্গে বলতে হয় চর জানাজাত ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় পদ্মা নদীতে বিলীন হওয়ার জন্য প্রহর গুনছে। যেভাবে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে মনে হয় ২/১ দিনের মধ্যে এই বিদ্যালয়টিও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বিদ্যালয়টি নদী থেকে মাত্র ১০০ ফুট দূরে অবস্থান করছে। এ জন্য বিদ্যালয়ের ভবনটি সরানো হচ্ছে। শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান আহমেদ জানান, যেহেতু নদী ভাঙনে এ অঞ্চলের লোকজন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে লক্ষ্যে আমাদের প্রশাসনিকভাবে বিশেষ কিছু উদ্যোগ রয়েছে। পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়েই ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থেকে বিভিন্ন রকম সহায়তা করা হয়।

"