নরসুন্দা নদীপাড়ের শতকোটি টাকার জমি প্রভাবশালীদের দখলে

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আকিব হৃদয়, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল নরসুন্দা নদী ও পাড় দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট নির্মাণ করে চলছে। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শহর এলাকার আশেপাশে নদীর প্রায় ৫০ একর জমি দখল করেছে তারা। এসব জমির বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল কলেজ থেকে হোসেনপুর উপজেলা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় নদীপাড়ের বেশকিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। আবার শহরের পুরান থানা একরামপুর সেতু থেকে করিমগঞ্জ পর্যন্ত নদীর পাঁচ কিলোমিটারে বাড়িঘর, দোকানপাট তৈরি করে নদীর কয়েক একর জমি দখল করা হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও নদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গত এক বছর কিছু লোক নদী দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে নির্বিঘেœ বসবাস করছেন।

জানা গেছে, নরসুন্দা নদীর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নদী-সংলগ্ন শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন। পরে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ১১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। বাস্তবায়নের তিন মাসের মধ্যে নরসুন্দাপাড়ের ছয় কোটি টাকার ওকাওয়ে ধসে নদীতে চলে যায়। ফলে জেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে জেলাবাসী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নরসুন্দা নদীর প্রায় ৩০ একর ভূমি এখনো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করলে সরকারি কোটি কোটি টাকার ভূমি উদ্ধার হতে পারে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবদুল গনী জানান, শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে করিমগঞ্জ ও নীলগঞ্জ পর্যন্ত এবং পশ্চিম দিকে হোসেনপুর অংশে ৫০ একরের বেশি নদীর জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। এর দাম প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। নদী বাঁচাতে এসব বেদখলি জমি উদ্ধার এখন সময়ের দাবি। জেলা প্রশাসক সারোয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, নদীর জমি দখলের বিষয়টি প্রশাসনের জানা আছে। কিছুদিনের মধ্যে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এসব জমি উদ্ধার করা হবে বলেও জানান তিনি।

"