প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেয়েও চিকিৎসা করা হলো না আ.লীগ নেতা হোসেন আলীর

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

বেহাত হওয়া প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা ফেরত পেয়েও উন্নত চিকিৎসা নিতে পারলেন না ময়নসিংহের গৌরীপুরের অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন আলী। এর আগেই মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন। গত শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেন আলীর বাড়ি গৌরীপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গছন্দর গ্রামে। তিনি ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ হতবিল থেকে চিকিৎসার জন্য ৩০ হাজার টাকা অনুদান পায় অসুস্থ হোসেন আলী। পরে হোসেন আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম ২৮ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন স্বামীর নামে বরাদ্দকৃত টাকার চেক উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। গত ২ জুলাই সোমবার দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে ‘আ.লীগ নেতার চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র’ শিরোনামে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরে ওইদিন দুপুরে ইউএনও ফারহানা করিমের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল হোসেন আলীর বাড়িতে গিয়ে তার হাতে অনুদানের ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন। প্রতারক চক্রের সদস্য আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা হাতে পাওয়ার পর হোসেন আলীর পরিবার তার উন্নত চিকিৎসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত শনিবার সন্ধ্যায় হোসেন আলী বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। পরে ৭টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোসেন আলী মারা যান। হোসেন আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা হাতে পাওয়ার পর আমরা বাবার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন আলম বলেন, ‘হোসেন আলী আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকাটা হাতে পেয়েও উনি চিকিৎসা করাতে পারলেন না, এই বিষয়টা পীড়া দিচ্ছে।’

"