ছাতক প্রাণিসম্পদ অফিস

জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত ৮৫ হাজার পরিবার

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

সদরুল আমিন, ছাতক (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে প্রয়োজনীয় উপকরণ, ওষুধ, চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের কারণে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় ৮৫ হাজার পরিবারের হাঁস-মোরগ, গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া, কবুতর-কোয়েল খামারসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণী। প্রাণিসম্পদ অফিসের দেওয়া তথ্যে মতে, ১৩ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ছাতক উপজেলায় গরুর তালিকাভুক্ত খামার রয়েছে ১৮টি।

এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে গড়ে উঠা ছোট-বড় মিলে আরো রয়েছে ৬০-৬৫টি খামার। ছাগলের খামার তিনটি, হাঁসের খামার ২০০টি ও মোরগের খামার রয়েছে তিন শতাধিক। ছাতক উপজেলায় মোট গরু রয়েছে প্রায় তিন লাখের অধিক, মহিষ ছয় হাজার, ছাগল সাত হাজার, ভেড়া চার হাজার, হাঁস দুই লাখ, মোরগ তিন লাখ, কবুতর চার হাজারসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু-পাখি রয়েছে আরো লক্ষাধিক। সরকারি হিসেবে গৃহপালিত প্রাণীর সংখ্যা মোট সাত লাখ ১৮ হাজার হলেও এর চেয়ে অনেক বেশি প্রাণী রয়েছে এ উপজেলায়। এ

সব গবাদি পশু ও গৃহপালিত প্রাণীকে সম্পদে পরিণত করতে সরকার প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। এর মাধ্যমে কৃষক ও খামারিদের পরামর্শ প্রদান, ওষুধ বিতরণসহ সরকার সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। সরকারের লক্ষ্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

এতে দেশে ডিম, দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় উপকরণ, জনবল, ওষুধ ও ডাক্তার সংকটে পিছিয়ে পড়েছে ছাতক উপজেলার ডেইরি ও পোল্ট্রি খামারিসহ উৎপাদনকারীরা। উপজেলার দোলারবাজার, জাউয়া, দক্ষিণ খুরমা, ভাঁতগাঁও, সিংচাপইড় ও ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের একাধিক খামারি জানান, তারা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমেরিকান ব্রাহমা জাতের গরু উৎপাদন করতে আগ্রহী। কিন্তু এখানে কোনো ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় এ সেবা ও লক্ষ্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নের খামারিরা বলেন, সুরমা নদী ও দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার ফলে পশু-পাখি নিয়ে হাসপাতালে আসা-যাওয়া কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। সদরে এসে ডাক্তার নিয়ে যাওয়া সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। অনেক সময় দেখা যায় ডাক্তার নিয়ে বাড়ি পৌঁছার আগেই পশু মারা যায়।

এ জন্য তারা প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে পশু চিকিৎসক ও পরামর্শক নিয়োগের জন্যে সরকারের কাছে দাবি জানান। জানা গেছে, ছাতক প্রাণিসম্পদ অফিসে ১১টি পদের মধ্যে আটটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একজন, ভেটেরিনারী কম্পাউন্ডার একজন, এফএএআই একজনসহ তিনজন কর্মকর্তা দায়িত্বরত থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন একজন, ভিএফএ তিনজন, ইউএলএ একজন, অফিস সহকারী একজন, ড্রেসার একজন, এমএলএসএস একজনসহ অফিসের প্রধান আটটি পদ শুন্য রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুদ করিম সিদ্দিকী এ ব্যাপারে জানান, এখানে অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রাণিসম্পদ চিকিৎসায় তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পৌরসভার নিজস্ব প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা না থাকায় পৌরবাসীকেও তারা অতিরিক্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধ বরাদ্দ কম ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে এখানে। ফিল্ড অফিসার না থাকায় ১৩ ইউনিয়নের বিশাল এলাকায় গিয়ে তাদের পশুর চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

"