হালদায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম বিকল্প সড়ক

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

সজল চক্রবর্ত্তী, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

হালদা নদীর করাল স্রোতে প্রতিদিন ভেঙে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামের বিকল্প সড়ক নাজিরহাট হেঁয়াখো সড়ক-১। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার এই সড়ক দিয়ে হাল্কা ও ভারি যানবাহন অবাধে চলাচল করায় এক পাশ ডেবে যায়। ফলে ওই স্থান দিয়ে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজট লেগে থাকে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো মুহূর্তে সড়কটি বিলিন হয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নাজিরহাট হেঁয়াখো সড়ক-১ ঢাকা-চট্টগ্রামের বিকল্প সড়ক হিসেবে নির্মাণ করেছিল সরকার। সড়কে রয়েছে বেশকিছু বড় ও ছোট সেতু কালভার্ট। গত কয়েক বছরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটির সংস্কার করা হয়। কয়েক বছর আগেও নাজিরহাট বাজারের পশ্চিমকূল অংশ হালদা নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ছিল। কিন্তু গত বছরের বন্যায় আঘাতে ভাঙতে ভাঙতে উক্ত সড়ক বিলীন হতে শুরু করে। এ সময় জরুরি ভিত্তিতে ১০০ মিটার ভাঙন কবলিত স্থানে ৫ হাজার বালি ভর্তি জিও ব্যাগ স্থাপন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে ভারি যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় চলতি বছরে ঈদের কয়েকদিন আগে বন্যায় পানিতে সড়কের পাশে স্থাপন করা ব্যাগগুলো সরে গিয়ে সড়কের এক পাশ হালদা নদীর আর অন্য পাশ মন্দাকিনী নদীতে বিলীন হতে শুরু করে। স্থানীয়রা জানান, হেঁয়াখো সড়ক-১ দিয়ে প্রতিদিন সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, কাজিরহাট, নারায়হাট দাঁতমারা, হেঁয়াখো, রামগর, বাগানবাজার, বাংলাবাজার, বালুটিলা, ফেনী ওমিরেরসরাইয়ের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে আসছে। সড়কটি দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলে নিষেধ থাকলেও প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে। নাজিরহাট কলেজছাত্রী বিলকিছ আকতার বলেন, সড়কটি ভেঙে গেলে কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। কলেজটির অধ্যক্ষ এস এম নুরুল হুদা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সড়কটি ভেঙে গেলে সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, কাজিরহাট, মিজিরহাট, নারায়নহাটের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর কলেজে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি ওই সড়ক দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি সড়ক রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। নাজিরহাট পৌর সভার মেয়র এস এম সিরাজদৌল্লাহ বলেন, আমরা অতি দ্রুত এই সড়কে কাজ শুরু করার জন্য পাউবো বরাবরে কাগজপত্র প্রেরণ করেছি। জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার রায় বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পাউবো ও স্থানীয় সরকার যৌত উদ্যোগে কাজ করবে।

"