মহাসড়কে ইটের সলিং!

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৮, ০০:০০

এইচ আর তুহিন, যশোর

সড়ক-মহাসড়কের দৈন্যদশা নতুন কিছু নয়। বছর জুড়েই বেহাল অবস্থায় থাকে। কেবল ঈদ এলেই এই দুরাবস্থার চিত্র আলোচনায় উঠে আসে। তখন শুরু হয় মেরামতের তোড়জোড়। সেই তোড়জোড়ের ধারাবাহিকতায় যশোরের মহাসড়কগুলোর বড় বড় খানাখন্দ ঢাকতে ইটের সলিং ও জোড়াতালি দিয়ে চলাচল উপযোগী রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। তবে ঈদের আগে এসব সড়ক চলাচল উপযোগী করা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

সওজের দাবি, সড়কটি সংস্কারের জন্য ৩৩০ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সড়কের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিশ্চিত নয়। সরেজমিনে জানা যায়, যশোর-খুলনা, যশোর-বেনাপোল, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-মাগুরা ও যশোর-নড়াইল মহাসড়কের অবস্থা বেহাল। এ ছাড়া যশোর-চৌগাছা, শহরের দড়াটানা-চাঁচড়া, মণিহার-মুড়লি সড়কের পিচ উঠে ভেঙেচুড়ে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

৩৮ কিলোমিটার যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাঁচড়া মোড়, বাবলাতলা নার্সারিপট্টি, শংকরপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড, মুড়লি, বসুন্দিয়া, চেঙ্গুটিয়া, ও ভাঙাগেট এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া একই দৈর্ঘের যশোর-বেনাপোল সড়কের পুলেরহাট থেকে নাভারণ মোড় পর্যন্ত রাস্তা প্রায় চলাচলের অনুপযোগী। যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ কিলোমিটার অংশের গর্ত কিছুটা সংস্কার করে আপাত যানবাহন চলাচল উপযোগী করা হয়েছে। এদিকে যশোর-মাগুরা সড়কে সম্প্রতি নামকাওয়াস্তে সংস্কার করা হলেও আবারও সুরকি-বিটুমিন উঠে ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে যশোর শহরের পালবাড়ি-দড়াটানা-মণিহার-মুড়লি জাতীয় মহাসড়কের ছয় কিলোমিটার পৌনে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। তবে কাজ শেষের ছয় মাসের মাথায় বকচর অংশে এক কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়। মাত্র চার মাস আগে পুনঃসংস্কার করা হলেও তা টেকেনি। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বকচর ও মণিহার এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবার বসানো হচ্ছে ইটের হেরিং।

তেমনি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কটি ২০১৩ সালে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে নাভারণ মোড় পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটারে ওভার লে (বিটুমিনের আস্তরণ) সংস্কার কাজ করা হয়। এ সময় নিম্নমানের পাথরের কুচি ও বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে সংস্কারের এক বছর না যেতেই মহাসড়কের ওই অংশের অধিকাংশ জায়গার বিটুমিন উঠে বেহাল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে মহাসড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিকিয়ে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি সড়কটি সংস্কারের জন্য ৩৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সওজ বিভাগ কাজ শুরু না করে সংস্কারের নামে কয়েক কোটি টাকা খরচ করেছেন বলে জানা গেছে।

সওজ কর্মকর্তাদের দাবি, সড়কটি সংস্কারের জন্য ৩৩০ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সড়কের কাজ কবে শুরু হবে তা নিশ্চিত নয়। ফলে আসন্ন ঈদযাত্রা ও বর্ষা মৌসুমে যান চলাচল সচল রাখতেই আপাতত ইটের হেরিং বুনে সংস্কার করা হচ্ছে। ঈদের পরে স্থায়ীভাবে যশোর-খুলনা এবং যশোর-বেনাপোল সড়কে পুরোদমে সংস্কার কাজ শুরু হবে। এ ছাড়াও যশোর চুড়ামনকাঠি এবং পালবাড়ি-মুড়লি সড়কের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রকল্প চেয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

পরিবহন চালক স্বপন রায় বলেন, সড়কে চলাচলের কোনো অবস্থা নেই, যশোর অংশের যে বেহাল অবস্থা তা ভাষায় বর্ণনা করার নয়। এভাবে চলতে থাকলে বাস মালিক-শ্রমিকরা যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হবে। এ ছাড়াও দুর্ঘটনা বহুগুণে বাড়বে। যাত্রী ইদ্রিস আলী (৪৫) বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এসব রাস্তায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। বাধ্য হয়ে যাতায়াত করি। ধুলাবালি আর ঝাঁকিতে যাত্রীদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এই অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবিলম্বে স্থায়ী সংস্কার করা জরুরি। যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হোসেন খান বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ইতোমধ্যে যশোর-মাগুরা সড়কের ৬০ শতাংশ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কাজ দ্রুত হবে। এ ছাড়াও যশোর-খুলনা এবং যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের সংস্কার করে যানচলাচল সচল রাখা হচ্ছে।

 

"