ধুনটে স্কুল মাঠে তৈরি হচ্ছে বিপণিবিতান

আয় বৃদ্ধির জন্য মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত- বলেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

আবু সুফিয়ান, ধুনট (বগুড়া)

বগুড়ার ধুনট উপজেলার জোড়শিমুল উচ্চবিদ্যালয়ের জায়গায় তৈরি হচ্ছে বিপণিবিতান। এতে কমে আসছে মাঠের জায়গা। এ কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোড়শিমুল সরকারি হাট-বাজারের জায়গা ঘেঁষা স্থানীয় জোড়শিমুল উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ সীমানা প্রাচীর। ওই সীমানা প্রাচীর ভেঙে ইট দিয়ে স্থায়ী বিপণিবিতান তৈরি করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ১৯ মে বিপণিবিতান তৈরির কাজ শুরু করা হয়। এরই মধ্যে সাতটি দোকানঘরের প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৫টি দোকান ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। মার্কেট নির্মাণ কাজের তদারকি করছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চিকাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল। এদিকে মার্কেট নির্মাণের ফলে মাঠের দক্ষিণাংশের ৮ ফুট জায়গা কমে এসেছে। এছাড়া মার্কেট নির্মাণের ফলে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্কুলের ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমাদের স্কুল মাঠে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে, এ কারণে এখন মাঠে অনেক মালামাল পড়ে আছে। আমরা তো মাঠে খেলাধুলা করতে পারছি না। কবে এসব মালামাল সরানো হবে জানি না। কবে আমরা পাব খেলার মাঠ।’ কয়েকজন অভিভাবক জানান, সরকারি স্কুলে সরকারের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ তো বৈধ নয়। তারা কীভাবে এ কাজ করছে? প্রশাসন কি দেখে না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাঠের দক্ষিণাংশে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাতটি দোকানঘরের কাজ অর্ধেক হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দোকানঘর ভাড়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, মার্কেট নির্মাণের ফলে বিদ্যালয় মাঠের জায়গা কমে এসেছে। এ অঞ্চলের একমাত্র বড় মাঠ এটি। মার্কেট নির্মাণ হওয়ায় মাঠটি ছোট হয়ে এসেছে। তাছাড়া বিদ্যালয়টির উন্নয়ন পরিকল্পনায় মার্কেট প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

চিকাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল বলেন, যে সাতটি দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে সীমানা প্রাচীরের বাইরে বিদ্যালয়ের জায়গা বেদখল হয়ে ছিল। ওই জায়গা দখল নিয়ে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের আয় বৃদ্ধির জন্য মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৫টি দোকানঘর নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানার মোবাইলে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

"