শাজাহানপুরে কৃষিজমিতে ইটভাটা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের দুরুলিয়া এবং খলিশাকান্দি গ্রামে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কৃষিজমিতে ৮টি অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ওই এলাকায় কৃষি জমিতে নতুন আরো ২টি ইটভাটা নির্মাণ কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন ২টি ইটভাটা নির্মাণ বন্ধসহ আগের ৮টি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওই দুই গ্রামের ৯৬জন বাসিন্দা গত বুধবার বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগটির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নে কৃষি জমিতে দুরুলিয়া ও খলিসাকান্দি গ্রামে এসবিএফ, জেবিএফ নামে ২টি, এলজিবি-১, এলজিবি-২, এলজিপি, এসএসবি, এনএমবি নামে আটটি ইটভাটা রয়েছে। জেবিএফ-৩ নামের ইটভাটাসহ নতুন দুটি ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

ইটভাটার আশপাশের এলাকাগুলোতে অর্ধ লক্ষাধিক লোকের স্থায়ী বসবাস। রয়েছে দুবলাগাড়ি ডিগ্রি কলেজ, কারিগরি মহিলা কলেজ, ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি দাখিল ও ৩টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ীসহ মোট ৪টি মাদ্রাসা। এ ছাড়াও দুবলাগাড়ি হাটসহ সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ওই এলাকাগুলোতে। স্থানীয় কৃষকরা তাদের আবাদি জমিতে বছরে ৩ থেকে ৪ বার ফসল উৎপাদন করতেন। কিন্তু ৮টি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদিত ধানে চাল থাকে না এবং ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ে যায় ফসল। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়াও আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা ডাবসহ সব ধরনের ফল ছোট হয়ে এসেছে এবং সেগুলো পচে পড়ে যাচ্ছে। কয়েকটি ডাব বড় হলেও তার মধ্যে পানি থাকে না। অপরদিকে, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া এবং ইটভাটার ট্রাকের ধুলোয় এলাকার প্রত্যেক বাড়িতে বাড়ছে শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা। বাড়িতে কাপড় শুকাতে দিলে তার ওপরে ধুলার আস্তরণ পড়ে থাকে। তাদের খাবারে, বিছানা, পড়ার টেবিলে ধুলা। সবমিলিয়ে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হলেও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা চুপ করে রয়েছেন। এসব অবৈধ ইটভাটার কারণে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন দুই গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক বাসিন্দা। বেঁচে থাকার স্বার্থে এলাকায় নতুন করে আর কোনো ইটভাটার অনুমতি না দেওয়া এবং আগের ৮টি ইটভাটা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান শহীদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, নতুন করে ইটভাটার কোনো প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে না। এভাবে ইটভাটা বাড়তে থাকলে উপজেলা থেকে কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফুয়ারা খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

"