জন্মবার্ষিকীতে কেউ স্মরণ করেন না শহীদ আসাদকে

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৮, ০০:০০

আল-আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

শামসুর রাহমান ‘আসাদের শার্ট’ কবিতায় লিখেন, ‘আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।’ কিংবা ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতায় অনুজকে স্মরণ করে মোহম্মদ মনিরুজ্জামান লিখেন, ‘আসদের রক্তধারায় মহৎ/কবিতার, সব মহাকাব্যের,/আদি অনাদি আবেগ-/বাংলাদেশ-জাগ্রত।’ সাহিত্যে যেভাবেই স্মরণ করা হোক, জন্মস্থানেই অবহেলিত ’৬৯র স্বৈরাচার বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আসাদ। আজ তার ৭৬ তম জন্মবার্ষিকী।

স্থানীয়রা জানায়, শহীদ আদাসের সমাধী সংবলিত পৈত্রিক বাড়িতে এখন আর নিকট আত্মীয় কেউ থাকেন না। কবরটি পড়ে আছে অযতœ, অবহেলায়। শুধু মাত্র ২০ জানুয়ারি মৃত্যুবার্ষিকী আসলেই গণঅভ্যুত্থানের এই মহানায়কের কবরটিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন সবাই। এ দিকে ১০ জুন তার জন্ম বার্ষিকী হলেও তা জানেন না শিবপুর উপজেলার অনেকেই। এ উপলক্ষ্যে নেই কোনো আয়োজন। এমনকি শিবপুরের শহীদ আসাদ কলেজ ও আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজেও নেই কোনো কর্মসূচি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান তথা মোহাম্মদ আসাদ। পৈত্রিক নিবাস জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ আসদ ১৯৬৯ সালেঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) ঢাকা হল (বর্তমান ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল) শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন ২০ জানুয়ারি স্বৈরাচার আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনের সময় বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। পর মৃত্যুর পরই গণ-আন্দোলন ক্রমেই গণ-অভ্যূত্থানের রূপ নেয়। তার অনিবার্য অর্জন মুক্তযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। মৃতু্যুর পর গ্রামের বাড়ি ধানুয়া গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

সরেজমিনে শিবপুরের ধানুয়া গ্রামে শহীদ আসাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, খুব শুনশান অবস্থা বিরাজ করছে বাড়িটিতে। এখানে কেউ থাকেন না। পরিবারের সদস্যরা সবাই ঢাকায় বসাবাস করেন। বাড়ির পাশে আসাদের কবরটি অযতেœ অবহেলায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ আসাদের কবরের পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রতন নামে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ এগিয়ে আসেন। এ সময় তার সাথে কথা বললে তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, শুধু মাত্র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আসাদের কবরটি রঙ দিয়ে সাজানো হয় এবং কয়েকজন জড়ো হয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এছাড়া সারা বছর আর খবর থাকে না। জন্ম বার্ষিকীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান জন্মবার্ষিকী কবে তা অনেকেই জানেন না, এ নিয়ে কারো কোন আয়োজনও নেই।

শহীদ আসাদ কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ কাজল চন্দ্র দাস প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, কলেজে শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হলেও জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠান করা হয় না।

অপরদিকে শিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা জানান, শহীদ আসাদের জন্মবার্ষিকী কবে তা আমার জানা নেই। শুধু মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে পরিষদের পক্ষ থেকে আসাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

"