সুন্দরবনে আহরণকৃত কাঁকড়া ব্যবসায় সম্ভাবনার হাতছানি

পরিবহন সংকট প্রধান অন্তরায়

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০

খুলনা ও দাকোপ প্রতিনিধি

সুন্দরবনে বিশাল মৎস্য সম্পদের পাশাপাশি সম্প্রতি বছরগুলোতে কাকড়া আহরণকে একটি লাভজনক পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে জেলেরা। এ পেশার মাধ্যমে জেলে পরিবার ও ব্যবসায়ী মহলে ফিরে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। তবে, পরিবহনসহ নানা সমস্যায় রপ্তানিযোগ্য কাকড়া ব্যবসার অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্টরা নিরাপদে কাকড়া পরিবহনে বৈধ ট্রলার ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, প্রতিনিয়ত বনজ সম্পদ আহরণ প্রক্রিয়া সংকুচিত হয়ে আসায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বনজীবিরা এক সময় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদার কারণে তারা কাকড়া আহরণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সুন্দরবন পশ্চিম ও পূর্ব বিভাগের অধীন খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে দিনে দিনে বেড়ে চলেছে কাকড়া আহরণকারী জেলেদের সংখ্যা। বনের নানা সংকট ও প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে কাকড়া আহরণে জেলে এবং ব্যবসায়ীরা নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু বন থেকে কাকড়া পরিবহন সমস্যায় এ পেশাটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট জেলে এবং ব্যবসায়ীরা জানান, নিবন্ধনকৃত ট্রলারে পশুর নদী ব্যবহারে মাছ পরিবহনের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বনে আহরণকৃত কাকড়া পরিবহনের কোন অনুমতি নেই। এটি একদিকে যেমন দ্বৈত নীতি, তেমনি পেশাটিকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অথচ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কাকড়া জীবিত অবস্থায় রপ্তানির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে নৌকা যোগে বন অভ্যন্তর থেকে বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে কাকড়া পৌঁছাতে একদিকে যেমন অধিক সময়ের প্রয়োজন, তেমনি নানা ঝুঁকিও থেকে যায়। ফলে দীর্ঘ যাত্রাপথে বিক্রয় কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে অধিকাংশ কাকড়া মারা যায়। পরিবহন ও পরিবহন রুট জটিলতায় সময় ক্ষেপনে যথাসময়ে আহরিত কাকড়া বাজারজাত করতে না পারায় এ ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা ক্রমেই আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছেন। এ পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে জেলে এবং ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে নিবন্ধনকৃত ট্রলার পশুর নদী দিয়ে সুন্দরবনের দুবলার চর পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দাবী জানিয়ে সম্প্রতি খুলনার বন সংরক্ষক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

হোগলাবুনিয়া গ্রামের জেলে আকবর এবং জাহান আলী গাজী বলেন, ব্যবসায়ী এবং মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে আমাদের বনে যেতে হয়। পরিবহন সংকটের কারণে আমরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছি। ব্যবসায়ী নেতাদের মন্তব্য, বৈধ ট্রলার যোগে কাকড়া পরিবহনের সুযোগ পেলে জেলে ব্যবসায়ীরা যেমন স্বচ্ছল হবে, তেমনি এ খাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জনের সম্ভবনা রয়েছে। অন্যথায় কেবল পরিবহন সমস্যায় সম্ভবনাময় এ ব্যবসাটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়বে। তারা বৈধ ট্রলার ব্যবহারের অনুমতি প্রদানে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

"