আশ্রয়ণ প্রকল্পের হালহকিকত

‘রোদ্রে পুড়ি-বৃষ্টিতে ভিজি খোঁজ নেয় না কেউ’

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০

আল-আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

বৃষ্টি নামলে পোলাপাইন নিয়ে ঘরের এক কোনায় ঘাপটি মেরে বসে থাকি কখন বৃষ্টি থামবে? বৃষ্টি না থামলে কখনো কখনো সারারাত না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতে হয়। খাওয়া-দাওয়া ও গোসল করার জন্য যে টিউবওয়েল দিয়েছিল ওইগুলো থেকেও একফোঁটাও পানি আসে না। কথাগুলো বলছিলেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার শিমুলের টেক সান্তাপাড়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে বাসিন্দা মোজাহের ও মনিরা দম্পতি।

উপজেলা প্রশাসন ও সরেজমিন আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে জানা যায়, ২০০৪ সালে ওই গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্প করে ভূমি ও ঘরবাড়িহীন ১৩০টি পরিবারকে বসবাস করতে দেওয়া হয় এখানে। এরপর মেরামত না হওয়ায় ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবুও শেষ আশ্রয়স্থল এ আশ্রয়ণেই থাকতে হচ্ছে তাদের। বর্তমানে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ৮৫০ মানুষ বসবাস করছেন। ১৩০ পরিাবরের জন্য তৈরি করা একমাত্র পুকুরটিও শুকিয়ে গেছে। নেই কোনো ভালো স্যানিটারি ল্যাট্রিন। প্র¯্রাব ও পায়খানা সারতে হয়ে খোলা মাঠে। খোলা বিলের মধ্যে গোসল করে কাপড় পাল্টানো যে কি লজ্জার, তা নারী না হলে কেউ বুঝবে না। কেমন আছেন জানতে চাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শিমুল মিয়া প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এমনই পোড়া কপাল নিয়ে জন্ম নিছি, রোদ্রে পুড়ি আবার বৃষ্টিতেও ভিজি, তার পরও আমাদের খবর নেয় না কেউ।’ তিনি আরো বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করা যে কত কষ্টের, তা যারা বসবাস করছে তারা ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না। যেহেতু আমাদের কোনো জমিজমা নেই, তাই নিরুপায় হয়ে এখানে থাকি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাবেক সভাপতি শাহাবুদ্দিন, বসবাসকারী হাবিবুর ও রোপা বেগমসহ অনেকেই প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ‘আমরা গরিব মানুষ দিন আনি দিন খাই। সরকার আমাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় দিয়েছে। এখানে হয়েছে দুর্ভোগের আরেক নাম। ঘরগুলোর উপরের টিনের চাল মরিচা ধরে বড় বড় ছিদ্র হয়ে আছে। বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না। আমাদের বাথরুমগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। বাথরুমগুলোর ময়লা যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বাথরুমগুলো থেকে যেই দুর্গন্ধ আসে আমরা ঘরে থাকতে পারি না। এ আশ্রয়ণ প্রকল্প যখন নির্মাণ করা হয়, তখন এখানে আমাদের খাওয়ার পানি ও গোসল করার জন্য ১৩টি টিউবওয়েল এবং একটি পুকুর করে দেওয়া হয়েছিল। ওই পুকুর এখন শুকাইয়া গেছে। আর ১৩টি টিউবওয়েল থেকে এখন ১০টি টিউবওয়েলই নষ্ট হয়ে আছে। যে তিনটা টিউবওয়েল আছে, তা থেকেও ভালোভাবে পানি আসে না। প্রায় চার বছর আগে ডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পানির সংকট সমাধানের জন্য মোটর (সামা টিউবওয়েল) বসিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই মোটরটিও কয়েক বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে আছে।

ডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাবের উল হাই জানান, এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী মানুষদের পানি সংকট সমাধানের জন্য আমি পরিষদের অর্থায়নে সামা টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু সঠিক তদারকির জন্য সামা টিউবওয়েলটি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, আমি ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি পরিদর্শন করে ওইখানে বসবাসকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি এবং ঘরগুলো মেরামত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে আবেদন করেছি। আশা করি, খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।

"