এ কেমন সরকারি স্কুল!

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ০০:০০

কোরবান আলী, ঝিনাইদহ

স্কুলের বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক দুই মাসের টাকা তুলেছেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। অথচ সরকারিভাবেই এই বিল পরিশোধ করা হয়। এদিকে বকেয়া বিল পরিশোধ না করার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৩৫নং বালিয়াডাঙ্গার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিতা ঘোষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নাম করে দুই দফায় ১৫ টাকা হারে টাকা উত্তোলন করেন। এদিকে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় গত দুই মাস আগেই ঝিনাইদহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে দুই দফায় তোলা টাকা কি করলেন প্রধান শিক্ষক মিতা ঘোষ?

বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিলের কথা বলে সব ক্লাসের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষিকা দুই দফায় ১৫ টাকা করে নিয়েছেন। অথচ এই টাকা নেওয়ার পরও বিল পরিশোধ করা হয়নি। ফলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে গত ২ মাস ধরে তাদের বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই। গরমে ক্লাস করতেও সমস্যা হচ্ছে।

সরেজমিন জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে ৪ বছর ধরে কোনো পরিচালনা কমিটি নেই। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। ৪ বছর ধরে পরিচালনা কমিটি না থাকায় প্রধান শিক্ষক অ্যাডহক কমিটি গঠন করে ইচ্ছামতো সরকারি স্লিপের টাকা, অনুদানের টাকা, বিদ্যালয়ের নিজস্ব পুকুরের টাকা ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে আদায়কৃত বিদ্যুৎ বিলের টাকা তছরুপ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে সেই টাকাও আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করে ওই স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষক প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাদে অন্য কোনো খাতে টাকা নেওয়া যাবে না বলে বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎ বিলসহ নানা খাতে টাকা নেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সামসুর রহমান অভিযোগ করেন, চার বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে কোনো পরিচালনা কমিটি নেই। তিনি এর আগে সভাপতি ছিলেন। গত ২০১৭ সালের শেষের দিকে নির্বাচন করবে বলে প্রধান শিক্ষক মিতা ঘোষ তফসিল ঘোষণা করেন। বেশ কয়েকজন ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন। যাচাই-বাছাই ও মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময় শেষ হলে প্রধান শিক্ষক বলেন, নির্বাচন ১০ দিন পরে হবে। সেই থেকে নির্বাচন তিনি আর করেননি। তার নিজের ও পলাশ নামে আরেক জনের কাছ থেকে মনোনয়ন বিক্রি বাবদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে তিনি পাঁচ মাসেও পরিশোধ করেননি।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মিতা ঘোষ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, অন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এটি করেন। ঠিক তেমনটি করা হয়েছে। আর কমিটি গঠন নিয়ে তিনি বলেন, বেশ কয়েকবার স্কুল কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে দুটি গ্রুপ থাকায় তা করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ বা অন্য কোনো কারণে টাকা নেওয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি আরো জানান, এ ধরনের অভিযোগ পেয়ে আমি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন না করার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।

"