কলাপাড়ায় ‘বদলার বাজার’

‘আমাদের মতো বৃদ্ধের চাহিদা খুব একটা নেই’

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ০০:০০

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

ব্যাগের ভেতর পুরাতন জামাকাপড়। কাজের সময় পরা হবে এ পোশাক। শুধু চোখেমুখে গৃহস্থের ডাকের জন্য অপেক্ষা। শ্রম বেঁচতে এসেছেন ৭০ বছরের বয়োবৃদ্ধ থেকে শুরু করে ১৪ বছরের কিশোর। গ্রাহকরা যে যার পছন্দমতো এখান থেকে কিনে নিয়ে যান তাদের। স্থানীয়ভাবে একে বলে ‘বদলার বাজার’।

‘আমাদের মতো বৃদ্ধের চাহিদা খুব একটা নেই বললেই চলে। তবে জোয়ানদের চাহিদা অনেক বেশি। সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাই। আর এই টাকা দিয়েই সংসারের ভরণপোষণ বহন করি’-জানান উপজেলার নীলগঞ্জ থেকে কাজের সন্ধানে আসা ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ রজব আলী।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পৌরভবন সংলগ্ন এতিমখানা মাদ্রাসার পাশে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বসে এই বাজার। গ্রামাঞ্চলে কাজ কম থাকায় প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত শ্রমিক এখানে আসে। শ্রমবিক্রির এই বাজার শ্রমিকদের কাছে পরিচিত হওয়ায় কলাপাড়ার টিয়াখালী, চাকামাইয়া, নীলগঞ্জ, ধানখালীসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা এখানে আসেন।

বাজারে আসা একাধিক শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালের দিকে শ্রমিকের চাহিদা একটু বেশি, তখন মজুরিও নির্ধারণ হয় একটু বেশি। দুপুর গড়িয়ে আসলে দাম একটু কমে যায়। তবে কোনো শ্রমিক এখানে অবিক্রিত থাকে না। ক্রেতাদের কাছে কেউ একমাস, কেউ এক সপ্তাহ, কেউবা আবার এক দিনের জন্য বিক্রি হয়। শ্রম কেনা মালিকের ওপর নির্ভর করে তাদের দাম। তবে এখানে বৃদ্ধের চেয়ে যুবকদের চাহিদা একটু বেশি। মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বাজার হওয়ায় শ্রম বিক্রির বাজার একটু বেশি জমজমাট থাকে।

কাজের সন্ধানে আসা টিয়াখালীর শ্রমিক আবদুল বারেক বলেন, এখন গ্রামের বাড়িতে কাজকর্ম একটু কম। গ্রামে একদিন কাজ করলে দুদিন বসে খেতে হয়। এভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হয়। এ ছাড়া এই শহরে কাজের চাপ একটু বেশি। তাই প্রতিদিন সকালে কাজের খোঁজে এখানে ছুটে আসি।

পৌর শহরের বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান বলেন, নতুন বাড়ি করেছি, এখন চারা রোপণ করতে হবে। তাই শ্রমিকের সন্ধানে এখানে এসেছি। ৪৫০ টাকা মজুরিতে তিন দিনের জন্য তিনজন লোক নিয়েছি। শহরের আরেক বাসিন্দা রাসেল জানান, আমাদের ওখানে মাহফিল হবে। মাঠ পরিষ্কার করার জন্য লোক খুঁজছিলাম। এখানে লোক পেয়েছি। ৫০০ টাকা করে এক দিনের জন্য দুজন লোক নিয়েছি।

"