স্বাস্থ্যসেবা

চিকিৎসক সংকটে আমতলী ও মাধবপুরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ০০:০০

সাইদ খোকন, আমতলী (বরগুনা) ও হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই বরগুনার আমতলী ও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ ছাড়াও ফার্মাসিস্ট, কার্ডিওগ্রাফারসহ বিভিন্ন ধরনের জনবল সংকট নিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুইটি।

আমাদের বরগুনার আমতলী প্রতিনিধি জানান, উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ট্রমা সেন্টারটিতে মাত্র দুইজন চিকিৎসক। অথচ এখানে তিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। যাদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২১ জন এমবিবিএস চিকিৎসকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ১৯টি পদই শূন্য রয়েছে। বর্তমানে দুইজন ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। ফার্মাসিস্টের দুইটি পদের একটি শূন্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) তিনটি পদের একটি শূন্য, একমাত্র ফিজিওথেরাপিস্ট পদটিও শূন্য, অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট আছে একজন অথচ থাকার কথা তিনজন। আর একটি পদের একটিই শূন্য জুনিয়র মেকানিক, কম্পাউন্ডার, কার্ডিওগ্রাফার। হাসপাতালে নেই নিজস্ব জেনারেটর। বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগিদের টাকায় মোমবাতি কিনে জ্বালাতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য লোকবল দরকার। তিনজন ডাক্তারের মধ্যে আমি প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকি, দুইজন ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বরগুনার সিভিল সার্জন হুমায়ূন শাহিন খান বলেন, বরগুনা জেলায় ১৩২ জন ডাক্তারের মধ্যে ডাক্তার আছে মাত্র ১৭ জন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি ।

এদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর প্রতিনিধি জানান, উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কাগজেপত্রে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ছয়জন। এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ১১টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমবিবিএস ডাক্তার আছেন মাত্র দুটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন কিশলয় সাহা। তবে তিনি এখন ছুটিতে আছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুনিয়র কার্ডিওলজি মাহবুব আলমও সম্প্রতি বদলি হয়ে চলে গেছেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি কাগজপত্রে মাধবপুর হাসপাতাল থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করলেও তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ, হৃদ রোগ, দন্ত, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও শল্য চিকিৎসক নেই। জুনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া ফয়সল আহম্মেদ প্রশিক্ষণজনিত কারণে চলে গেছেন। প্যাথলজিস্ট নুসরাত জাহান, অদিতি রায় মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিক ভবনে অস্ত্রোপচার কক্ষ, ব্লাড ব্যাংক থাকলেও এনেসথেসিয়া, শল্য চিকিৎসক, ব্লাড ব্যাংক টেকনিশিয়ানের অভাবে অনেক বছর ধরে প্রসূতি অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। ব্যবহার না করায় নষ্ট হচ্ছে অস্ত্রোপচার ও ব্লাড ব্যাংকের যন্ত্রপাতি। একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালককে সময়মতো পাওয়া যায় না। হাসপাতালের দুটি ভবনের মধ্যে ২০০৪ সালের ১৯ শয্যার একটি নতুন ভবন করা হলেও আজ পর্যন্ত জনবল সংকটের অজুহাতে চালু করা হয়নি। পুরাতন ৩১ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা চলছে। এ ছাড়াও মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর, চৌমুহনী, আদাঐর, শাহজাহানপুর, আন্দিউড়া, জগদীশপুর, বুল্লা, বাঘাসুরা, নোয়াপাড়ায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার নেই।

মাধবপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীদাম দাশগুপ্ত বলেন, উপজেলা সরকারি হাসপাতালে মাধবপুরের রোগীসহ পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর, নাসিরনগর উপজেলার অনেক রোগী মাধবপুর হাসপাতালে সেবা নেন। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীরা প্রতিদিন চিকিৎসা পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইশতিয়াক আল মামুন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, জনবল ও চিকিৎসকের কারণে ১৯ শয্যার নতুন ভবনসহ ৫০ শয্যা হাসপাতালে পূণাঙ্গ সেবা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার জনবল ও চিকিৎসক চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

"