টিসিবির পণ্য কিনতে বিশেষ শর্ত রংপুরের ক্রেতাদের অসন্তোষ

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, তেল ও খেজুরের চাহিদা বেশি

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৮, ০০:০০

আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর

রমজানকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো রংপুরেও শুরু হয়েছে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র পণ্য বিক্রি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বিক্রি শুরুর দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে পণ্য। অন্যদিকে তেল ও খেজুর ক্রয় করতে বিশেষ শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এ নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গতকাল সোমবার নগরীর প্রেস ক্লাব এলাকায় টিসিবি’র ট্রাক সেলের সামনে দেখা যায় ক্রেতাদের লম্বা লাইন। কিন্তু লাইন শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায় পণ্য।

টিসিবি’র ট্রাকের সামনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন সালেহা বেগম। তিনি জানান, ‘খেজুর ও তেল কিনতে চাইলাম, ট্রাকের লোকজন বলল, তেল, খেজুর কিনতে হলে কমপক্ষে ৫ কেজি করে কিনতে হবে। শর্ত পূরণ করে তেল ও খেজুর ক্রয় করার পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত ২ কেজি ডাল, ২ কেজি চিনি কিনলাম।’ সালেহা আরও বলেন, ‘একজন দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ করে তেল ও খেজুর কেনা সম্ভব নয়।’ রুবেল হোসেন নামে একজন বলেন, ‘প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়ায় আছি, এখন শুনছি তেল ও খেজুর শেষ। কাজ বাদ দিয়ে প্রতিদিন কী লাইনে দাঁড়ায় থাকা যায়?’ সালেহা বেগম ও রুবেল হোসেনের মতো চাহিদামাফিক পণ্য না পাওয়ায় হতাশ অন্য ক্রেতাদেরও।

শুধু প্রেস ক্লাব এলাকায় নয়, নগরীর অন্যান্য পয়েন্টেও একই অবস্থায়। নগরীর সিও বাজার এলাকায় টিসিবির পণ্য কিনতে আসা সুজন মিয়া অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করেই বলেন, ‘মাত্র ক’দিন হলো টিসিবি পণ্য বিক্রি করতেছে। এখনই চাহিদামতো পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। পরে কী হবে?’ স্টেশন এলাকার রিকশাচালক মোহাম্মদ জামিউর জানান, ‘২ কেজি ডাল ও ১ কেজি চিনি এবং ১ কেজি ছোলা কিনেছেন তিনি। সয়াবিন তেল কিনতে চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি।’ জামিউর বলেন, ‘তেল আগেই নাকি বিক্রি হয়ে গেছে। ট্রাকে পণ্য আরও বেশি রাখা দরকার। তাহলে ক্রেতাদের খালি হাতে ফিরে যেতে হতো না।’

প্রেস ক্লাবের ট্রাক সেলের এজেন্ট কাজী মাহাতাব হোসেন জানান, ‘চাহিদা থাকার পরও তারা পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। মসুর ডাল, চিনি ও তেল ৪০০ কেজি এবং ছোলা দেওয়া হচ্ছে ৩০০ কেজি করে। আর খেজুর দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫০ কেজি, যা দুপুর পর্যন্ত বিক্রি করাই সম্ভব হয়। এরপর প্রায় সব পণ্য শেষ হয়ে যায়।’ তিনি আরো বলেন, তেল ও খেজুরের চাহিদা সব থেকে বেশি। সবাই এসে তেল ও খেজুর কিনতে চায়। কিন্তু সবাইকে চাহিদামতো তেল ও খেজুর দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ সরবরাহ কম। তাছাড়া বাজার দরের সঙ্গে টিসিবি’র খেজুর ও তেলের দামে অনেক পার্থক্য থাকলে চিনি এবং ডালের দাম প্রায় সমান এবং ছোলার দাম বাজারেই কম। তাই ক্রেতারা টিসিবি’র ছোলা, চিনি ও ডাল কিনতে চান না। কিন্তু আমাদের সব পণ্যই কিনতে হয়। তাই বিক্রয়ের স্বার্থে তেল ও খেজুর কিনতে ক্রেতাদের বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়েছে।

টিসিবি’র রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রংপুর সদরে উপজেলায় ৭ পয়েন্টে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। এছাড়া ৯১ জন ডিলারের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পণ্য বিক্রি করছেন। প্রতিটি ট্রাকসেলে ৩০-৫০ কেজি খেজুর এবং অন্যান্য পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ কেজি পর্যন্ত। আরো জানা যায়, একজন ভোক্তা কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা দরে সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি ও ডাল, ৮৫ টাকা দরে ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ৭০ টাকা দরে ৫ কেজি ছোলা এবং ১২০ টাকা দরে ১ কেজি খেজুর কিনতে পারছেন। শুক্রবার বাদে সপ্তাহের বাকি ৬ দিনই নির্ধারিত স্থানে এসব পণ্য বিক্রি করা হয়।

এ ব্যাপারে টিসিবি’র রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান মেশকাতুল আলম বলেন, সক্ষমতা অনুযায়ীই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এর বেশি সম্ভব নয়। বরাদ্দকৃত পণ্য ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বিক্রয় করা হবে। যারা আজ পণ্য ক্রয় করতে পারেনি তারা কাল অবশ্যই পাবে। তিনি আরো বলেন, টিসিবি’র ছোলা ও চিনির দাম বাজার দরের থেকে বেশি হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

"