লোকসানের মুখে বান্দরবানের কয়েকশ শসা চাষি

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮, ০০:০০

রিমন পালিত, বান্দরবান

বাজারে দাম না থাকা, অসময়ে বৃষ্টিপাত ও রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লোকসান গুনছে বান্দরবানের শসা চাষিরা। ক্ষতিকারক তামাকের পরিবর্তে ও ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় শসা চাষ করে আজ রাস্তায় বসেছে উপজেলার কয়েকশত চাষি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় প্রায় ৫১০ একর জমিতে ৬০৫ জন চাষি শসার আবাদ করেছে। তারমধ্যে লামা পৌরসভায় ৭০ একর, গজালিয়া ইউনয়িনে ৬০, সদর ইউনিয়নে ৬৫, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৯৫, আজিজনগর ইউনিয়নে ৩০, সরই ইউনিয়নে ৮০, রুপসীপাড়া ইউনিয়নে ১৩০ ও ফাইতং ইউনিয়নে ৪০ একর জমিতে শসার চাষ হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক শসার চাষ হয়েছে রুপসীপাড়া ইউনিয়নে।

সরেজমিনে রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ শসার ক্ষেত লালচে হয়ে গেছে। অজ্ঞাত রোগে শসার ফুল ধরার সাথে সাথে তা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। গাছের অধিকাংশ শসা রোগে আক্রান্ত হয়ে আঁকাবাঁকা (কেট) হয়ে গেছে। গত বছরের শসার কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হলেও এ বছর পাইকারী ১০ থেকে ১৩ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। প্রতিদিন এই উপজেলা থেকে ১০/১৫ ট্রাক শসা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে নিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রার তিন ভাগের একভাগ ফলন পাওয়া যাবে কিনা সেই শংকায় আছেন চাষিরা।

রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী, বৈক্ষমঝিরি ও অংহ্লা পাড়ার শসা চাষি মো. হানিফ, উহ্লামং মার্মা, সেলিনা আক্তার, রুমা আক্তার, অনেকে বলেন, শসা চাষাবাদে আমাদের কানি প্রতি (৪০ শতাংশ) জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই পর্যন্ত কানি প্রতি বিক্রয় এসেছে ১৫ হাজার টাকা। ক্ষেতে যে পরিমাণ ফল রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ আর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হতে পারে। আমরা সকলের কানি প্রতি ১৪/১৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হবে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের শসা চাষিরা জানান, সরকারি বা বেসরকারি সংরক্ষণাগার থাকলে তাদের এই লাখ লাখ টাকা লোকসান দিতে হতোনা। তাই জরুরি ভিত্তিতে কাঁচামাল সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে সংরক্ষণাগার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিসার নুরে আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ফলন কম ও উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় কৃষকরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন বলেন, এই লোকসানের প্রভাব পরবর্তী ফসলের উপর পড়বে এবং আগামীতে শসা চাষে নিরুৎসাহিত হবে। তিনি আরো বলেন, শশা ক্ষেতে রোগ বালাই বিষয়ে আমাদের জানা ছিলনা। সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে গিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও মাঠে যাব। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হবে।

 

 

"