নাগরপুরে বসছে তামাকের হাট : চলছে কেনাবেচা

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ০০:০০

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে কোনোভাবেই কমছে না ক্ষতিকর তামাকের চাষ। রীতিমতো বসছে তামাক বেচাকেনার হাট। ক্ষতির কথা জেনেও শুধু বেশি লাভের আশায় তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষক। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে পাশাপাশি কৃষকরাও ভুগছেন নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায়।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, একসময় উপজেলার চরাঞ্চলখ্যাত মোকনা ও পাকুটিয়া ইউনিয়নের জমিতে চাষ করা হতো, ধান, পাট, গমসহ নানা ধরনের শাকসবজি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সিগারেট, বিড়ি ও জর্দা কোম্পানির প্রলোভনে পড়ে নাগরপুর উপজেলার মোকনা ও পাকুটিয়া ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকরা শুরু করেছেন বিষাক্ত তামাক চাষ। চাষে খরচ কম লাভ বেশি তাই অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ক্ষতির কথা চিন্তা না করে কৃষকরা দিন দিন ঝুঁকে পড়ছেন তামাক চাষে। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে; সেই সঙ্গে কৃষকরা ভুগছেন নানা ধরনের জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায়। সরেজমিন উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের কেদারপুরে গতকাল শুক্রবার অস্থায়ীভাবে বসা দুটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ব্যারেল বেঁধে কৃষকরা দূর-দূরান্ত থেকে তাদের উৎপাদিত তামাক নিয়ে আসছেন। আর সেখানে অপেক্ষারত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা (যাদের সাথে আগে থেকেই কৃষকদের চুক্তি করা) তামাক দেখে দেখে দাম নির্ধারণ করে নিচ্ছেন। ঢাকা ট্যোবাকোর প্রতিনিধি সিরাজ মিয়া প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমরা এখান থেকে তামাকের গুণাগুণ দেখে ৮৬ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছি। এ বছর এখান থেকে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ টন।’ হাটে কথা হয় কৃষক মো. আব্দুল মজিদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তামাক চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় আমি দীর্ঘ আট বছর যাবৎ তামাক চাষ করছি। সেই সঙ্গে চাষ করার আগে কোম্পানির প্রতিনিধিরা তামাক চাষ করতে অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। তাছাড়া বালু মাটিতে তামাক চাষ করে অন্য ফসলের চেয়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়।’

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর নাগরপুর উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। কৃষি অফিস বলছে, তামাক চাষ তারা দিন দিন কমানোর চেষ্টা করছে। এ বছর ৩৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হলেও তা গত বছরের তুলনায় কম। কৃষকদের তামাক চাষ থেকে নিরুৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিএম রাশেদুল আলম। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে এ অঞ্চলের চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সবজি, টমেটো, করলা ও ভুট্টা চাষে পরার্মশ দেওয়া হয়েছে। টমেটো চাষ করে অনেকে সফলতা পেয়েছে। আশা করছি, আগামীতে ক্ষতিকর তামাক চাষ অনেকাংশ কমে যাবে।

 

"