প্রভাবশালীদের দখলে কাশিয়ানীর কুঠির খাল

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮, ০০:০০

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। দিন দিন বেড়েই চলেছে এ দখল প্রক্রিয়া। খালের উভয়পাশে অনেক বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় উপজেলাবাসী মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন।

জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে বারাশিয়া নদীর কুঠিরঘাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে কাশিয়ানীর পূর্বপাড়া ও পোনা গ্রামের মধ্য দিয়ে বিল পবনের সঙ্গে মিলিত হয়েছে খালটি; যা কাশিয়ানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা খাল দখল করে গড়ে তুলেছেন নানা অবৈধ স্থাপনা। এদিকে, কাশিয়ানী-টুঙ্গীপাড়া রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। নবনির্মিত এ রেললাইনের নিচ দিয়ে কোনো কালভার্টের ব্যবস্থা না থাকায় খালের পানি প্রবাহের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকার মেহেদী হাসান, আলী মুন্সী, মিজান প্রফেসর, মানিক কায়স্থ, ফিরোজ প্রফেসর, বিশ্ব ঠাকুর, ডা. কোবাদ ও তার জামাতা, আকবার সরদার, মেহেদী হাসানসহ স্থানীয় আরো অনেকে খাল দখল করে খালের মধ্য দিয়ে আড়াআড়িভাবে বাড়িতে যাতায়াতের পাকা-কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করেছেন। উপজেলার কুঠিরঘাট এলাকা থেকে পোনা পর্যন্ত প্রায় দখল হয়ে গেছে।

কাশিয়ানী সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী লিটন, পোনা এলাকার বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান জানান, এক সময় এ খাল দিয়ে ছোট ছোট নৌকা চলাচল করতে দেখেছি, কিন্তু এখন খালের কোনো চিহ্ন নেই বললেই চলে। কাশিয়ানী পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফায়েকুজ্জামান বলেন, পানি নিষ্কাশন খালটি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করা না গেলে কাশিয়ানী ও আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মোক্তাদির হোসেন বলেন, ওই খালের জায়গার মালিক জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের সহযোগিতা ছাড়া অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক বলেন, অবৈধভাবে সরকারি খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"