স্কুলের ৩০ গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

শাকিল আহমেদ, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ টেন্ডার ছাড়াই কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এমনকি দখলের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৩ শতক জমি বাঁশের ঘেড়া দিয়ে রেখেছেন তিনি। অভিযুক্ত মো. লিটন ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল জব্বারের ভাতিজা এবং সে হযরত শাহজাহাল বিমানবন্দরের পণ্যখালাস পদে চাকুরি করছেন।

সরেজমিনে গতকাল রোববার গিয়ে দেখা যায়, ২০০০ সালে সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনিপাড়া গ্রামে ‘আখানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি’ স্থাপতি হয়। ৫৮ শতক জমির উপরে বিদ্যালয়ে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের জমি ঘিরে রোপন করা হয়েছিল ইউক্লিপটার্স গাছ। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল জব্বারের ভাতিজা স্থানীয় প্রভাবশালী মো. লিটনের নির্দেশে একদল শ্রমিক টেন্ডার ছাড়াই ওই বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০টি ইউক্লিপটার্স কর্তন করে এবং ট্রাক্টরে করে সেসব গাছগুলো নিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, লিটন ওই বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৩ শতক জমি বাঁশের ঘেড়া দিয়ে দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করে স্থানীয়রা। দক্ষিণ ধনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রব্বানি বলেন, ৫৮ শতক জমির উপরে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিদ্যালয়ের জমির উপরে ইউক্লিপটার্স গাছগুলো রয়েছে। লিটনের বড় চাচা আব্দুল জব্বার বিদ্যালয়ের সভাপতি; সেই ক্ষমতায় লিটন বিদ্যালয়ের জমি দখল ও গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। একই গ্রামে আরেক বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, গাছ কর্তনের সময় আমরা স্থানীয়রা বাঁধা দিয়েছিলাম কিন্তু উল্টো আমাদেরকে তাঁরা হুমকি দিচ্ছে। ৩০টি গাছের মূল্য প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা। যেহেতু সরকারি জমির উপরে গাছগুলো তাই স্থানীয় শিক্ষা অধিদপ্তর এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল জব্বার বলেন, আমি নিষেধ করেছিলাম ভাতিজা লিটনকে; কিন্তু সে কোন কথা শোনেনি। সে জোরপূর্বক ভাবে গাছগুলো কেটে নিচ্ছে। বাঁধা দিলে উল্টো সে আমাকে ধমক দিচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সেফারুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার সময় আমি লিটনকে বাঁধা দিতে গিয়ে অনেক অপমান হয়েছি। ভাই তারা স্থানীয়ভাবে অনেক প্রভাবশালী। আমি আজ এখানে চাকুরি করে কাল অন্য জায়গায় চাকুরি করব। তাদেরকে বাঁধা দিলে তো আমাকে মারধর করবে তাই আর কিছু বলি নাই।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লিয়াকত আলী সরকার এ ব্যাপারে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য বলা হয়েছে। সেই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

অভিযুক্ত লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আমার জায়গা বাঁশের ঘেড়া দিয়ে দখল করে নিয়েছি এবং আমার জমির উপরে থাকা গাছগুলো কেটে নিয়েছি।

"