সংখ্যালঘু পরিবারকে হুমকি

‘টাকা দেই জমি ছাড়েন নইলে উচ্ছেদ’

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

‘টাকা দেই জমি ছেড়ে অন্য জায়গায় বসতবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করুন, নইলে উচ্ছেদ হবেন’ গাজীপুরের কালীগঞ্জে সংখ্যালঘু একটি পরিবারকে নিজেদের পৈতৃক ভিটা-মাটি উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন ‘মোয়াজউদ্দিন গ্রুপ অব কোম্পানি।’ গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে রুবি তেরেজা রোজারিও।

ওই কোম্পানি একের পর এক অত্যাচার ও উচ্ছেদের পায়তারায় বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা কালীগঞ্জ ইউএনও অফিস, থানায় ও স্থানীয় নাগরী ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রুবি রোজারিও জানান, উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা গ্রামে স্বামী মিন্টুু তেরেজা, এক ছেলে ও তিন কন্যা সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করছেন। পৈতৃক সূত্রে তার স্বামী উলুখোলা মৌজার ৪১ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু মোয়াজ উদ্দিন নামের একটি কোম্পানি জোরপূর্বক ওই জমি দখলের চেষ্ঠা করছে। ওই কোম্পানির সত্ত্বাধিকারী মো. লুৎফুর রহমান তাদেরকে উচ্ছেদের পায়তারা করছেন। তার সঙ্গে স্থানীয় সাইফুল ইসলাম, সুরুজ মোড়ল ও কোম্পানির ব্যবস্থাপক বাবুল করিম সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো জানান, চলতি মাসের ৯ তারিখে তার বাড়ির আশেপাশে কোম্পানির লোক বালুভরাট শুরু করে। তাদের ভরাটকৃত বালু ও পানিতে রুবির বাড়ি তলিয়ে যায়। ঘরে হাটু সমান পানি জমে যায়। বাড়ির টয়লেট বালুতে ভরে যায়। এর প্রতিবাদ করলে জমি বিক্রি করে চলে যেতে বলে। জমি বিক্রি না করলে এভাবে নানাভাবে তাদের ক্ষতি ও অত্যাচার করে উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি দিচ্ছে কোম্পানির লোকজন ও স্থানীয়রা।

কোম্পানির ব্যবস্থাপক বাবুল করিম বলেন, ড্রেজার দিয়ে আমরা আমাদের জমিতে বালু ফেলেছি। এক জমিতে বালু ফেললে অন্যের জমিতে বালু-পানি যেতেই পারে। তবে রুবির বাড়িতে যদি পানি গিয়ে থাকে তাহলে লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিব। এ ব্যাপারে তার মালিকের সঙ্গে কথা বলতে মুঠোফোন নম্বর চাইলে তিনি অসুস্থ বলে দাবি করেন এবং বলেন- ‘স্যার সুস্থ হলে পরে কথা বলবে।’

নাগরী ইউপি চেয়ারম্যান মো. কাদির মিয়া বলেন, ওই কোম্পানির দ্বারা রুবি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; যা সত্যি খুব দুঃখজনক। কোম্পানি তার বাড়ির রাস্তা ও বাড়ি দখলের পায়তারা করছে জানিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দিয়েছে। দুই পক্ষকেই নোটিস করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবু বকর মিয়া বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম মাওলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"