সরকারি জমিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের জায়গায় দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সময়ে শহরের দত্ত মার্কেট এলাকায় উপজেলা পরিষদের প্রায় তিন একর জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করছেন তিনি। এমনকি সমন্বয় কমিটির সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ওই জায়গায় শতাধিক দোকান পজিশন দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন বলে মাসিক সমন্বয় সভায় অভিযোগ করা হয়।

মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা মাহমুদ হেনা মুন্সি উপস্থাপিত অভিযোগে সমর্থন জানান বাহাদুরপুর, মৌরাট, পাট্টা, হাবাসপুর, কলিমহর, মাছপাড়া, শরিষা ও কসবামাঝাইল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। এ ছাড়াও সরকারি রাজস্ব, এডিপিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অনিয়মেরও অভিযোগ করেন উপজেলার আটজন ইউপি চেয়ারম্যান।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পাংশা উপজেলা শহরের দত্ত মার্কেট এলাকায় ওই জায়গা অবস্থিত। উপজেলা পরিষদের ওই জায়গায় বন্ধ রয়েছে চারটি শেডের স্থাপনা তৈরির কাজ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, বালি, খোয়াসহ স্থাপনা তৈরির বিভিন্ন সামগ্রী। ওই স্থানের নোংরা পরিবেশে কয়েকজন মাংস ব্যবসায়ী চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ব্যবসা।

ওই জায়গার ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্মাণাধীন স্থাপনার জায়গায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মাংস, মুরগি, পান বিক্রি করতেন। ২০ শতাংশের মতো এ জায়গায় পাকা চারটি শেড তৈরি করা হচ্ছে। এই শেড উপজেলা চেয়ারম্যান নিজেই তৈরি করছেন। স্থানীয়রা জানান, পাঁচ বছর আগেও উপজেলা পরিষদের ওই জায়গাটি ফাঁকা ছিল। বিগত উপজেলা চেয়ারম্যান সেখানে মার্কেট নির্মাণ করেন। ওই জায়গার ওপরে প্রায় ১৫০টি দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। এসব দোকানঘরের জন্য সর্বনি¤œ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় পজিশন বিক্রি হয়েছে। এরপর এখন বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ নতুন করে আরো দোকানঘর নির্মাণ করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ হাসান ওদুদ জানান, দীর্ঘদিন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাপক দুর্ভোগে ছিলেন। একটু বৃষ্টি হলেই বাজারের মধ্যে কাদা হয়ে যেত। এই দুর্ভোগ লাঘবের জন্য পরিষদের রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করে এডিপির টাকা থেকে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছিল। ভাইস চেয়ারম্যানের উপস্থাপিত বিষয়গুলো সঠিক নয়।

ইউএনও অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে পাংশা উপজেলা পরিষদের নিজস্ব ভবন ও অন্যান্য দাফতরিক ভবন তৈরি করার জন্য নারায়ণপুর মৌজায় ২ একর ৩৯ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি উপজেলা পরিষদের নামে সরকার অধিগ্রহণ করে। পরে পাংশা উপজেলা পরিষদ অন্যত্র স্থাপিত হলে উক্ত জমিতে অস্থায়ীভাবে পাংশা শহরের প্রধান কাঁচাবাজারে পরিণত হয়। কাগজ-কলমে উপজেলা পরিষদে ১০ একর ৬৭ শতক জমি থাকলেও প্রায় তিন একর জমি অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে রয়েছে।

ইউএনও মোহম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করা বিধিসম্মত না হওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"