মোতাওয়াল্লির বিরুদ্ধে অভিযোগ

একাই আত্মসাৎ করেছেন দুই মসজিদের জমি

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

শতবছর পেরিয়ে গেলেও জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার দাশরা-শিয়ালাপাড়া জামে মসজিদের বেহাল দশা। একই অবস্থা উপজেলার দাশরা বিলের ৭০ বছরের ঘাট গুচ্ছগ্রাম জামে মসজিদের। মসজিদ দুটির নামে প্রায় ৬৫ বিঘা জমি থাকলেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। অভিযোগ, একাধিক ওয়াক্ফ স্টেটের মোতাওয়াল্লি হয়ে প্রভাবশালী ওয়ারেছুল মজিদ কদর স্থানীয়দের দান করা মসজিদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে আসছে। এই কাজে এলাকার কয়েকজনও তার সঙ্গে আছেন।

প্রায় এক মাস আগে মাটির ঘরের জরাজীর্ণ মসজিদটি এলাকার মুসল্লীরা নিজ উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ করতে চাইলে বর্তমান মোতাওয়াল্লি ওয়ারেছুল গত ৭ মার্চ আদালতে মামলা করে মসজিদ নির্মাণে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুসল্লীরা মসজিদটি নির্মাণ করতে চাইলে মোতাওয়াল্লি আবারও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে নির্মাণকাজে বিঘœ ঘটাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষেতলাল উপজেলার দাশরা শিয়ালাপাড়া জামে মসজিদের ছাদসহ ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরায় ঝুঁকি নিয়ে নামাজ পড়ছেন মুসল্লীরা। মসজিদের নামে নির্মিত একটি মাদ্রাসার একই অবস্থা। ঘরগুলোতে ফাটল ও দেয়াল হেলে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই চলছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ক্লাস। এই মসজিদের নামে প্রায় ৪০-৪৫ বিঘা জমি আছে।

উপজেলা পরিষদের সদস্য নুরবানু খাতুন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন ও আবদুল ওয়াদুদ ভুট্টু জানান, শত বছরেও মসজিদ ও মাদ্রাসার কোনো উন্নয়ন হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে মুসল্লীরা মসজিদে নামাজ পড়ছে। এ জন্য মসজিদগুলো দ্রুত পুনর্নির্মান করা জরুরি।

এদিকে, ১৯৪৮ সালে নির্মিত দাশরা বিলের ঘাট গুচ্ছগ্রাম জামে মসজিদের একই অবস্থা। এই মসজিদের নামেও আছে প্রায় ১৮ বিঘা জমি। বিলের ঘাট মসজিদের প্রজেক্ট কমিটির সভাপতি ফিরোজ উদ্দীন বলেন, এত সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও ৭০ বছরেও এই মোতাওয়াল্লি মসজিদের কোনো উন্নয়ন করেনি। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় মাটির ঘরের পুরনো জরাজীর্ণ মসজিদটি ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করতে চাইলে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং মসজিদ নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করছে।

ক্ষেতলাল থানার ওসি আকরাম হোসেন জানান, বিলের ঘাট জামে মসজিদে আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করার পর উভয় পক্ষই শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যেই আছে। স্থানীয় মোশারফ হোসেনসহ এলাকাবাসী দুই মসজিদের এক মোতাওয়াল্লির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ তার হাত থেকে জমি উদ্ধার করে মসজিদের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আবেদন জানান।

অভিযুক্ত মোতাওয়াল্লি ওয়ারেছুল মজিদ কদর মুঠোফোনে বলেন, বিলের ঘাট মসজিদের ১৮ বিঘা জমির কথা আমার নিজেরও জানা নেই এবং শিয়ালাপাড়া মসজিদের ২৮ বিঘা জমি আছে। আমি যখন যা করি ওয়াক্ফ স্টেটের নিয়ম অনুসারে করে থাকি। এসব জমি আত্মসাতের বিষয়ে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। জয়পুরহাট ওয়াক্ফ অডিটর মো. নুরুজ্জামান বলেন, বিলের ঘাট ও শিয়ালাপাড়া মসজিদের ওয়াক্ফ স্টেটের একই মোতাওয়াল্লি তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ আসলে অবশ্যই ওয়াক্ফ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

 

"