হালদায় মা মাছের আনাগোনা বৃষ্টি হলে ডিম ছাড়তে পারে

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে মা মাছের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই এক দফা হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি তিন উপজেলায় দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টি থাকার পর সামান্য বর্ষণের ফলে হালদা নদীর সংযোগ খাল ও ছরা সিক্ত হয়ে উঠেছে। বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ হলে নদীতে মা-মাছ ডিম ছাড়তে পাড়ে বলে জানিয়েছে মৎস্যজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। তবে বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনায় ডিম আহরণকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও বর্জ্যরে কারণে নদী দূষণ, হালদা থেকে বালু উত্তোলন ও মাছ চোরদের কারণে ডিম সংগ্রহে কম হওয়া আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ডিম আহরণকারীরা জানান, চৈত্র মাস প্রায় শেষ। বজ্রপাতসহ প্রবল বর্ষণ হলে হালদা নদীতে মা-মাছ বিভিন্ন স্থান থেকে ডিম ছাড়তে চলে আসে। আসন্ন অমাবস্যা তিথিকে সামনে রেখে আকাশে ভারী মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির আলামত দেখে বিভিন্ন শাখা খাল ও নদী যথা কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, চেংখালী, পোড়াকোপালী, সোনাইখাল, তেড়পাড়িখাল, ডোমখালীখাল প্রভৃতি স্থান থেকে হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা-মাছের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ডিম আহরণকারী গড়দুয়ারার কামাল সওদাগর জানান, চৈত্র মাসের শেষে ও বৈশাখ মাসের প্রথমে হালদা নদীতে মা মাছের ছাড়া ডিমের পোনা দ্রুত বর্ধনশীল। তাই ডিম আহরণকারীরা বৃষ্টির আবাস পেয়ে ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, অমাবস্যা তিথির পরও যদি বজ্রসহ বর্ষণ অব্যাহত থাকে আসন্ন অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে হয়তো মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারে। বড় আকারের ডিম আহরণকারীরা সরকারি হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু ফোটালে ও অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের ডিম আহরণকারীরা বৃষ্টির আভাস দেখে সনাতন পদ্ধতির মাটির কুয়াগুলো মেরামত ও তৈরি করছে ডিম থেকে রেণু ফোটানোর জন্য। তাছাড়া সরকারি রেণু ফোটানোর হ্যাচারিগুলোও সংস্কার মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নদীতে অভিযান চালিয়ে ঘেরা জাল, মাছ ধরার নৌকা ও বালুভর্তি নৌকা জব্দ করা হলেও জালের মালিককে পাওয়া যায়নি। মৎস্য বিভাগে প্রয়োজনীয় লোকবল ও যানবাহনের অভাবে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না বলে উল্লেখ করেন। অনেক সময় মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযানের খবর মুঠোফানের মাধ্যমে দ্রুত মাছ চোরদের কাছে চলে যায় বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না বলে মৎস্য বিভাগ সূত্র গণমাধ্যমকে জানান।

 

"