ঘোড়াশাল ও পলাশ সার-কারখানা

এক বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ সার সংকটের আশঙ্কা

উৎপাদন শুরুর দাবিতে আন্দোলনে শ্রমিক-কর্মচারীরা উচ্চমূল্যে সার আমদানি করতে হতে পারে

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

আল-আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

দীর্ঘ এক বছরেও চালু হয়নি নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় অবস্থিত ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন। গ্রীষ্মকালে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন সারকারখানা দুটিতে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল সরকারি সিদ্ধান্তে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা। এরপর থেকে কারখানার দুটিতে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

সরেজমিনে জানা যায়, ২০১৬ সালেও টানা নয় মাস ঘোড়াশাল ও পলাশ সার কারখানা দুটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার পর ডিসেম্বরে উৎপাদনে যায় কারখানা দুটি। কিন্তু গ্যাস সরবরাহের মাত্র চার মাসের মাথায় আবারও ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিলে গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় কারখানা দুটির উৎপাদন। এরপর থেকে দীর্ঘ এক বছর হয়ে গেল এখনো শুরু হয়নি সার কারখানা দুটিতে সার উৎপাদনের কাজ। ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন ঘোড়াশাল সার কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ৪২২ টন ও পলাশ সার কারখানার ৩০০ টন। বছরের অধিকাংশ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানা দুটিকে ব্যাপক লোকসান ও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এদিকে, সার কারখানা দুটিতে গ্যাস সরবরাহের দাবিতে সিবিএ নেতা ও সার কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানার সিবিএ সভাপতি আমিনুল হক ভূঁইয়া প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, কবে নাগাদ কারখানা দুটিতে গ্যাস সরবরাহ করা হবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া হয়নি। কারখানা দুটিতে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ করে উৎপাদন শুরু করা না গেলে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে। ফলে দেশে ইউরিয়া সারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ উৎপাদন ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে সার আমদানি করতে হতে পারে। এর ফলে প্রতি টন সার আমদানিতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। তিনি আরো বলেন, সার কারখানা দুটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন আমদানি নির্ভর হচ্ছে সরকার অন্যদিকে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। বছরের দীর্ঘ সময় কারখানা দুটি বন্ধ থাকায় লাভজনক প্রতিষ্ঠান দুটি এখন লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে বন্ধ থাকায় মরিচা পড়ে অকেজো হয়ে যাওয়ায় ঘোড়াশাল সার কারখানার দুটি কনভাটারের মধ্যে একটি কনভাটারের বাস্কেট ফেল করেছে। এ কারনে উৎপাদনও অর্ধেকে নেমে আসবে। এই নেতা বলেন, এক বছর যাবৎ সার কারখানা দুটি বন্ধ থাকায় কারখানা দুটিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা খুবই কষ্ট করে জীবনযাপন করছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত সার কারখানা দুটিতে গ্যাস সরবরাহ দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেন। এ বিষয়ে ঘোড়াশাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশলী) আবুল কাশেম ও পলাশ সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশলী) এন এম আবদুর রহিম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গ্যাস প্রত্যাহার করে নেওয়া সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে কবে নাগাদ কারখানা পুনরায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে তা সঠিক ভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। গ্যাস সরবরাহ হলেও উৎপাদনে যেতে পারবে দুটি কারখানা।

"