চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক

মেরামতের চার মাসেই খানাখন্দ

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

মাইনুদ্দিন রুবেল, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের পিচ ও বিটুমিন উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দে ভরপুর ওই সড়ক দিয়ে চলছে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে দুর্ভোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, বিজয়নগর ও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

উপজেলাবাসী জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া ও মাধবপুর উপজেলার মানুষকে চান্দুরা-আখাউড়া সড়কটি ব্যবহার করে বিজয়নগর, আখাউড়া উপজেলা ও আখাউড়া স্থলবন্দরে যেতে হয়। এটিই বিজয়নগর উপজেলার একমাত্র প্রধান সড়ক। তিন উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে। রাতে এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে সিলেট থেকে আখাউড়া স্থলবন্দরগামী পাথরবাহী ট্রাক।

চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীরা জানান, গাড়ির ঝাঁকুনিতে শরীরে ব্যথা হয়ে যায়। সবচেয়ে খারাপ দশা হয় অসুস্থদের। রোগীদের নিয়ে তিন উপজেলার মানুষকে পড়তে হয় ভীষণ দুর্ভোগে। রাস্তার ঝাঁকুনিতে হাসপাতালে যাওয়ার পথে তারা আরও মুমূর্ষু হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চান্দুরা-আখাউড় বাইপাস পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণ করা হয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে সড়কটির প্রশস্ততা বাড়ান হয়। কিন্তু কয়েক বছর পরই সড়কটি ভাঙতে শুরু করে। ক্রমে বাড়তে থাকে ভাঙন। ২০১৫ সালের দিকেও সড়কটি সংস্কার করা হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের শেষের দিকে চান্দুরা-আখাউড়া বাইপাস পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়কের খানাখন্দ ও গর্তের অংশ মেরামত কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে মেসার্স ইসলাম ট্রের্ডাস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির খানাখন্দ ও গর্ত মেরামত কাজের জন্য ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পায়। গত বছরের ২২ নভেম্বর সড়কের মেরামত কাজ শুরু হয়ে ১৯ ডিসেম্বর শেষ হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, আমতলীবাজার, মির্জাপুর, আইড়ল, মিলনবাজার, কালীবাজার, চম্পকনগর, নোয়াগাঁও, পত্তন, শ্রীপুর, আদমপুর, সিঙ্গারবিল, টানপাড়া ও খড়মবাজার এলাকাগুলো সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচ, ইট ও সুরকি সরে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব জায়গায় বিভিন্ন যানবাহন হেলেদুলে ও ধীরগতিতে চলে। এতে পথচারী ও যানচালকদের সময় লাগছে বেশি।

স্থানীয় মো. তুহিন ও সাইফুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘চার মাসে আগে লাখ লাখ টাকা খরচ করে সড়কটি মেরামত করা হয়েছে। অথচ কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবার ভাঙাচোরা, খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের কাজের কারণেই রাস্তা বেহাল হয়েছে।’

রাজেল আবেদীন রকি নামে এক পথচারী বলেন, কিছুদিন পরপরই এ করুণ অবস্থা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা নির্মাণে ঠিকাদারদের তাড়াহুড়ো এবং নিম্নমানের কাজে জন্য সড়কের মাঝে ছোটবড় গর্ত হয়ে রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়েছে। ইসলামপুর কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজের স্নাতকের ছাত্রী শ্রাবন্তী রাণী সরকার বলেন, রাস্তাজুড়েই অসংখ্য ভাঙা ও গর্তের কারণে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়। তার উপর আছে ধুলাবালি। এই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করতে ইচ্ছে করে না। এমনকি সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে। সাধারণ রোগী, গর্ভবতীদের দুর্ভোগের কোনো সীমা নেই।

একাধিকবার চেষ্টা করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসলাম ট্রের্ডাসের মালিকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা র্নিবাহী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, কয়েকমাস হলো আমি এখানে যোগদান করেছি। রাস্তার কাজ সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং কাজের ত্রুটি থাকার কারণে ঠিকাদারের কাজের বিল স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি ঠিকাদারের নাম জানাতে পারেনি নি।

"