গোয়েন্দা প্রতিবেদন না পাওয়ায় আটকে গেছে ইবি শিক্ষক নিয়োগ

সিন্ডিকেটকে অবমাননা করার অভিযোগে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতির পদত্যাগ

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

এ আর রাশেদ, ইবি

নিয়োগ বোর্ড সুপারিশ ও সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত অনুমোদনের পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন না পাওয়া এক শিক্ষক নিয়োগ আটকে গেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি)। আর বিশ^বিদ্যালয় সিন্ডিকেটকে অবমাননার করার অভিযোগ এনে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি থেকে পদত্যাগ করেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. আব্দুল মুঈদ। গত মঙ্গলবার বিকালে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দেন বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি অর্থনীতি বিভাগে চারটি বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে ৫ জনকে নিয়োগ দেয় বিশ^বিদ্যালয়ের ২৩৮তম সিন্ডিকেট। এরমধ্যে শাহেদ আহমেদকে সহকারী অধ্যাপক এবং হুমায়ন কবির, মিথিলা তানযিল, শারমিন আক্তার সনিয়া ও আরিফুল ইসলামকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে আরিফুল ইসলামকে এখনো যোগদান পত্র দেয়নি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। নিয়োগ বোর্ড এবং সিন্ডিকেট অনুমোদন দেয়ার পরও আরিফুল ইসলামকে যোগদান পত্র না দেয়ায় প্রশাসনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে সভাপতির পদ থেকে অধ্যাপক ড. আব্দুল মুঈদ পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

পদত্যাগের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. আব্দুল মুঈদ মুঠোফোনে জানান, নিয়োগ বোর্ডে এক্সপার্ট হিসেবে যে কয়েকজনের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল তার মধ্যে একজন ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত। তাকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ওই বোর্ডের এক্সপার্ট হিসেবে মনোনিত করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে প্রার্থীকে প্রথম হিসেবে সুপারিশ করেছেন ও সিন্ডিকেট সেটিকে আবার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন তাহলে সে এখনো পর্যন্ত কেন নিয়োগ পেল না? এর মাধ্যমে শুধু নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের অপমান করা হয়নি, বিশ^বিদ্যালয় সিন্ডিকেটকেও অবমাননা করা হয়েছে। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

এ বিষয়ে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘সিন্ডিকেটের যেকোন সিদ্ধান্ত যৌক্তিক কারণে স্থগিত রাখার আইনগত অধিকার রয়েছে উপাচার্যের। কথিত ব্যক্তি সম্পর্কে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গোয়েন্দা তদারকির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি হয়ে গেলে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সুতরাং এখানে সিন্ডিকেট বা সিলেকশন বোর্ডকে অবমাননা করার বিষয়টি অবান্তর।’

 

"