মেহেরপুরে ওএমএসের চাল নিয়ে চালবাজি

পাঁচ কেজির জায়গায় তিন কেজি, তাতেও দুইশ গ্রাম কম!

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

মাহাবুব চান্দু, মেহেরপুর

মেহেরপুর পৌর এলাকায় ওএমএসের চাল ও আটায় ওজনের কম দেওয়া, সকাল ১১টার মধ্যে চাল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়াসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এক ডিলার বলেছেন, তারা খাদ্যগুদাম থেকে সরবরাহ করা বস্তাভরতি চাল ও আটায় ওজনে কম পাচ্ছেন, তাই সমন্বয় করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, মেহেরপুর পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে রয়েছে নয়জন ডিলার। তারা ৩০ টাকা দরের চাল ও ১৭ টাকা কেজি দরে আটা প্রতিজনকে ৫ কেজি করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ৩ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে। ডিলাররা পাল্লায় মেপে চাল আটা বিক্রি করছেন। সেই চাল ও আটা ডিজিটাল স্কেলে (মিটারে) ওজন করে ভোক্তারা তিন কেজিতে ২শ-১শ গ্রাম করে কম পাচ্ছেন। অধিকাংশ ডিলার বেলা ১১টার মধ্যে বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের বিক্রি কার্যক্রম। কোনো কোনো ডিলার চাল, আটা নি¤œ আয়ের মানুষকে না দিয়ে গোপনে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ডিলার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে চালের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকার সারাদেশের ন্যায় মেহেরপুর জেলা শহরে পৌর এলাকায় ৯টি ওয়ার্ডে ডিলারের মাধ্যমে চাল আটা বিক্রি শুরু করেছেন প্রায় সপ্তাহ হয়ে গেছে। নয়জন ডিলার প্রতিদিন ৫৫৫ কেজি আটা ও ৫৫৫ কেজি চাল জেলা খাদ্য অফিস থেকে উত্তোলন করছেন। ডিলারদের সুষ্ঠুভাবে চাল আটা বিক্রি করা হচ্ছে কি না দেখভালের জন্য প্রতিটি ডিলারের পেছনে একজন করে তদারকি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করার কথা। তবে কোনো তদারকি কর্মকর্তাকেই দেখভাল করতে দেখা যায় না। গতকাল বুধবার সকাল ১১টা সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার মো. তুফানের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বন্ধ দেখা যায়। প্রতিদিনই তিনি ১১টার মধ্যে বন্ধ করেন বলে অন্তত ২০-২৫ জন অভিযোগ করেছেন। অন্য ডিলারদেরও অনুরূপ বন্ধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সকাল ১১ টার পর শহরের প্রধান সড়কে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টুর প্রতিষ্ঠানটিকে খোলা দেখা গেছে। যদিও সেখানে চাল আটা গ্রহীতাদের লাইন দেখা যায়নি।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল হোসেন মিন্টু অভিযোগ করে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমাদের ডিলার মো. আনিছুর রহমান ভুলুর কাছে নিকটবর্তী অন্য ওয়ার্ডের দুস্থরা চাল-আটা নিতে আসলে দেওয়া হচ্ছে না। নিজ নিজ ওয়ার্ডের বাইরে দেওয়া যাবে না বলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতি তিন কেজি চাল বা আটাতে ২শ গ্রাম করে ডিলাররা কম দিচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন ৩ কেজি আটার দাম ৫১ টাকা হলেও প্রত্যেকের কাছে ৫২ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনসহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন সাড়ে ৯টার দিকে তাদের ওয়ার্ডের ডিলার প্রতিষ্ঠান খোলে। ১১টার মধ্যে বন্ধ করে চলে যায়। এজন্য লম্বা লাইন দেখে অনেকেই চাল আটা নিতে এসে ফিরে যায়। মনসুর আলী নামের এক শ্রমজীবী অভিযোগ করেছেন, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে চাল নেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন ৩শ টাকা মজুরি পাই। সেই টাকায় বাজারের উন্নত মানের চাল কেনা যায় না। আর লাইনে দাঁড়িয়ে চাল আটা নিতে গেলে সেদিন আর শ্রম বিকানো যায় না।

কম দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে একজন ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এমনিতে প্রতি বস্তায় গোডাউন থেকেই এক দেড় কেজি করে কম আসে। তারপর ৩ কেজি করে ওজন করতে গিয়ে আরও কমে যায়। এজন্য পরিকল্পিতভাবে সব ডিলারই প্রতি তিন কেজিতে ১শ গ্রাম করে কম দিতে বাধ্য হয়। তাছাড়া গোডাউনে মাল তোলার সময় অলিখিত কিছু খরচ আছে বলেও তিনি যুক্তি খ-ন করেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবদুল ওয়াহেদ বলেন, যে কোন ব্যক্তি ডিলারের কাছে চাল আটা থাকা পর্যন্ত চাইলেই দিতে বাধ্য থাকবেন। তবে ব্যাপক চাহিদার কারণে ৫ কেজির স্থলে ৩ কেজি করে দিচ্ছে ডিলারগণ। আর ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"