ভাষার মাস পেরিয়ে গেলেও বদলায়নি ইংরেজিতে লেখা প্রতিষ্ঠানের নাম

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

বাংলা ভাষার ব্যবহারে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়াসহ প্রচলনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও নিয়মটি সর্বত্র মানা হচ্ছে না। ইংরেজি লেখার সাইনবোর্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা ও স্থাপনায়। উপজেলার অর্ধশতাধিক বিদ্যালয়ের নামেই ব্যবহার হয়ে শুধু ইংরেজি।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের ইংরেজী অক্ষরে লেখা সাইনবোর্ড পাল্টানো হয়নি। ভাষার মাস পেরিয়ে গেলেও নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। বিদ্যালয় ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর মধ্য দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে কার্যক্রম। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিদ্যালয় প্রবেশ মুখে ইংরেজি লেখা দেখে অনুকরণ করছে ইংরেজি ভাষার দিকে। অনেকেই আবার বাংলায় লিখতেই জানে না নিজ বিদ্যালয়ের নাম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেকে জানে না ভাষার মাস কি, স্বাধীনতা দিবস কবে। এ নিয়ে অভিভাবক মহল আপত্তি জানালেও মিলছে না সমাধান। অপর দিকে উপজেলায় কতগুলো প্রতিষ্ঠানের নাম শুধু ইংরেজিতে লেখা তা জানে না কেউ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত হুগলি পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির প্রবেশ মুখের প্রধান ফটকে ইংরেজি অক্ষরে লেখা হয়েছে বিদ্যালয়ের নাম।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাইন বোর্ড তৈরির কাজটি করেছে। সাইনবোর্ডটি ইংরেজি অক্ষরে লেখা দেখে আপত্তি জানিয়েছিলাম কিন্তু কাজ হয়নি। অপরদিকে শহরের এক কিলোমিটারের মধ্যে হলদিবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে চোখে পড়ে ইংরেজি অক্ষরে লেখা বিদ্যালয়ের নাম। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা আমেনা খাতুন জানান, ম্যানুয়াল অনুযায়ী সাইন বোর্ডটি ইংরেজি অক্ষরে লেখা হয়েছে আমাদের কিছু করার নেই।

উপজেলার প্রকৌশল অধিদফতরের অফিস সহকারী কুতুব আলী জানান, উপজেলায় ৬০টি অধিক বিদ্যালয়ের নাম শুধু ইংরেজি আছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, গত অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়াল ও গেট নির্মাণে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের নাম শুধু ইংরেজিতে লিখে দিয়েছে, যা এখনো ওই ভাবেই আছে। এদিকে বিদ্যালয়সমুহের সাইনবোর্ড নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানটির খোঁজ নিতে উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগে যোগাযোগ করলে কেউ মুখ খোলেনি।

 

"