মুরাদনগরে ধর্মীয় শিক্ষক সংকটে হিন্দু শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

আরিফুল ইসলাম, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২০৪ প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩৫ স্কুলে নেই হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক। ফলে এসব স্কুলের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর।

সরেজমিনে জানা গেছে, স্কুলগুলোতে কোনো কোনো সময় ক্লাস হিন্দু ধর্ম বিষয়ে ক্লাস হয় না, আবার কোনো কোনো সময় ইসলাম ধর্মের শিক্ষক ক্লাস নেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে এসব স্কুলে পদায়ন করা হোক হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক।

হিন্দু শিক্ষক না থাকা স্কুলগুলো হলোÑপেন্নই, সোনাকান্দা, মোহাম্মদপুর, সাহেদাগোপ, পিপড়িয়াকান্দা, কাশিমপুর উত্তর, কাশিমপুর দক্ষিণ, কড়ইবাড়ি, গাজিপুর উত্তর, পান্ডুঘর, হিরাকাশি, মেটংঘর, বলীঘর, কোড়েরপাড়, হায়দরাবাদ পূর্ব, ডালপা, দেওরা দক্ষিণ, ইসলামপুর, সোনারামপুর, গাংগেরকুট, জাড্ডা, কোরবানপুর, জানঘর, পূর্ব ধইর, এলখাল, বাংগরা, দৌলতপুর, খামারগাাঁও, যোগেরখীল, বিষ্ণপুর, কোদালকাটা, কাগাতুয়া, গাজীপুর দক্ষিন, কুড়াখাল, দিঘীর পাড়, ধনপতিখোলা, নোয়াগাঁও উত্তর, চাপিতলা, পুস্কুরিনীরপাড়, খাপুরা, বাইড়া, মাজুর, চৈনপুর, শ্রীরামপুর, কামাল্লা, পশ্চিম, কামাল্লা পূর্ব, নোয়াগাঁও দক্ষিণ, কামারচর, ভবানীপুর, মোচাগড়া দক্ষিণ, রঘুরামপুর, যাত্রাপুর, বাহেরচর, পাচঁকিত্তা উত্তরকান্দি, বাখরাবাদ, তেমুরিয়া, দিলালপুর, ধনীরামপুর, ইউছুফনগর, মটকিরচর, রামপুর উত্তর, ঘোড়ারশাল, সুরেশ^র্দ্দি, বাখরনগর, কুলুবাড়ী, বেগমগঞ্জ, রহিমপুর, ভূবনঘর, ধামঘর, ধমঘর পূর্ব, রায়তলা, মুগসাইর, পরমতলা উত্তর, জাহাপুর, বড়ইয়াকুড়ি, রানীমূহুরী, সাতমোড়া, পায়ব, দড়িকান্দি, মেলামচর, আমপাল, পালাসুতা, কাজিয়াতল দক্ষিণ, পুটিয়াজুরী, উড়িশ^র, পান্তি, পাহাড়পুর গান্দ্রা, দৈয়ারা, বাবুটিপাড়া, লক্ষীপুর, রাজাবাড়ী, ছিলমপুর, গাজীপুর দক্ষিন, নোয়াপুস্করিনী, কালীপুরা, আলীরচর, সাহেবনগর, পশ্চিম সোনাউল্লাহ, চুলরিয়া, গকুলনগর, আড়ালিয়া, নহল, হাটাশ, বৈলাবাড়ি, বাইড়া উত্তর, পীরকাশিমপুর, ভাংগানগর, জানঘর দক্ষিন, হাটবলীবাড়ী, আকুবপুর, নবীপুর উত্তর, জাঙ্গাল আর্দশ, ফুলঘর, গনিপুর, শুশুন্ডা উত্তর, স্বল্পা, কমলপুর, সোনারামপুর, কালারাইয়া, কচুয়ারপাড়, রোয়াচালা, কুরুন্ডী, উত্তর ঘোড়াশাল, হোসনাবাদ, বাড়িয়াচারা, কৃষ্ণপুর, বলভদী, কুড়েরপাড়, নরসিংহপুর, মাধবপুর, রাজনগর, কামাল্লা উত্তর, সুবিলারচর, মুরাদনগর উত্তর পাড়া, গাইডুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

মুরাদনগর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক হিন্দু শিক্ষার্থী জানায়, তাদের ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ক্লাসের জন্য হিন্দু শিক্ষক না থাকায় মুসলমান শিক্ষকরাই ক্লাস নেন। এতে তারা অস্বস্তি বোধ করেন। অনেক সময় এই শিক্ষকদের কাছে অনেক বিষয়ে উত্তর পাওয়া যায় না বলে তারা জানায়।

মেলামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, এ স্কুলের ৩২৮ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৬০ জনই হিন্দু। এর মধ্যে হিন্দু শিক্ষক না থাকায় মুসলমান শিক্ষকরাই বাধ্য হয়ে হিন্দু ধর্ম বিষয়ে পাঠদান দিচ্ছে। ‘এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বেশ কয়েকবার লিখিতভাবে অবহিত করেও কোনো প্রকার প্রতিকার পাওয়া যায়নি।’

পাহাড়পুর গান্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এডিএম ছিদ্দিক হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে হিন্দু ধর্মের শিক্ষক নেই। ইসলাম ধর্মের শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে হিন্দু ধর্ম বিষয়ের পাঠদান করতে গিয়ে একদিকে শিক্ষকরা যেমন বিব্রত হন অন্যদিকে শিশু বয়সে ধর্মীয় বিষয়ের প্রকৃত শিক্ষাগ্রহণ থেকে ছাত্র-ছাত্রীরাও বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলা ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের ফলে কখনো কখনো হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক বিষয়ে শিক্ষক পাওয়া সমস্যা হয় বলে জানান বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রী সাধারণ সম্পাদক গাজীউল হক চৌধুরি। তিনি জানান, উপজেলা ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগে অন্যান্য বিষয়ে হিন্দু শিক্ষক পাওয়া গেলেও হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে অনেক সময় পাওয়া যায়। তাছাড়া ওই বিষয়ে হিন্দু শিক্ষক শূন্য বিদ্যালয়গুলো দূর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় অনেক সময় পদায়নকৃত শিক্ষকও যেতে চান না। ফলে শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সমস্যা তৈরি হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এএনএম মাহবুব আলম জানান, ধর্ম শিক্ষায় কোটা ভিত্তিতে নিয়োগ না হওয়া ও বিষয়ভিত্তিক কোন কোটা না থাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

"