হাতিয়াবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা ফিটনেসবিহীন সি-ট্রাক

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী

নোয়াখালীর হাতিয়াবাসীর চলাচলের একমাত্র মাধ্যম সী-ট্রাক। এর একটি ৪ মাস ধরে বিকল পড়ে আছে; অন্যটি চলছে ফিটনেস বিহীনভাবেই। ফলে ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা পার হচ্ছেন যাত্রীরা। আসছে বর্ষায় ঝড়ো আবহাওয়ায় শংকিত যাত্রী আর সী-ট্রাক কর্তৃপক্ষ। এদিকে যোগাযোগ সংকটের কারণে হাতিয়ার আকর্ষণ হারাচ্ছে পর্যটকরা।

নোয়াখালীর জেলা শহর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলা। নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ২২ কিলোমিটার মেঘনা পাড়ি দিয়ে যেতে হয় হাতিয়ায়। এ রুটে চলাচলকারী ২টি সী-ট্রাকের একটি গত ৪ মাস ধরে বিকল পড়ে আছে। আর চলাচলকারী সী-ট্রাকটির ফিটনেস শেষ হয়েছে ৪ বছর আগে। তলায় ফুটো হয়েছে সাত জায়গায়। মাঝ নদীতে প্রায় বিকল হয়ে যায় ইঞ্জিন। উজানের সময় দ্বিগুন-তিনগুন সময় বেশি নেয় পৌঁছতে। ফলে আসছে বর্ষায় ঝড়ো আবহাওয়ায় যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

হাতিয়ায় চলাচলকারী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান ঘাটে কোনো পল্টুন নেই। এই ঘাট থেকেই দৈনিক প্রায় ৭শ যাত্রী হাতিয়ে যাতায়াত করেন। সী-ট্রাকে ৮০Ñ১০০ যাত্রী বহনের ক্ষমতা থাকলেও প্রতিবার দেড়শ থেকে দুইশ যাত্রী বহন করে। বর্তমানে একটি সী-ট্রাক দিয়ে দৈনিক ৫শ যাত্রী বহন করা সম্ভব হচ্ছে। বাকী দুই থেকে তিনশ যাত্রীকে মাছ ধরার ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এই সুযোগে ট্রলার মালিকরা দুই-তিনগুণ ভাড়া আদায় করে বলে জানান, স্থানীয় সাংবাদিক ও ‘সচিত্র সুধারাম’-এর সম্পাদক দ্বীপ আজাদ। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো কারণই ছাড়াই সী-ট্রাকগুলো এক ঘণ্টার বেশি সময় যাত্রীদের বসিয়ে রাখে। অন্যদিকে ঘাটে পল্টুন না থাকায় সী-ট্রাক হতে নামতে প্রায় ঘটে দূর্ঘটনা। গেল কয়েক বছরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাড়ে নামতে গিয়ে ¯্রােতে ভেসে গেছে কয়েকজন যাত্রী। কেউ উদ্ধার হয়েছে জীবিত, কেউ মৃত। ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের কারণে হাতিয়ার প্রধান আকর্ষণ পর্যটনে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা। সী-ট্রাকের ত্রুটির কথা স্বীকার করে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি সী-ট্রাক মাস্টার আফজাল হোসেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দ্রুত সী-ট্রাকটি ডক-ইন করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য (নোয়াখালী-৬) আয়েশা ফেরদাউস জানান, ১টি নতুন সী-ট্রাক আনার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যটি মেরামত করা হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা হবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মো. রেজাউল করিম জানান, সম্প্রতি নৌ-মন্ত্রী শাহাজাহান খান হাতিয়া পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের জন্য শতাধিক সী-ট্রাক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হাতিয়াবাসীর পারাপারের জন্য দেওয়া হবে। তখন এই সমস্যা থাকবে না।

 

"