রংপুর কারমাইকেল কলেজ

এক মাসের জন্য বন্ধ চার ছাত্রাবাস খুলেনি আট বছরেও

* শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষই পারেন ছাত্রাবাস চালু করতে * সিট নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্বের আশঙ্কা

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

রংপুর প্রতিনিধি

সাতটি ছাত্রাবাস থাকার পরও আবাসন সংকটে ভুগছে উপমহাদেশের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ রংপুর কারমাইকেল কলেজ। ২০১১ সালে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষের জের ধরে একমাসের জন্য বন্ধ হওয়া চার ছাত্রাবাস খোলা হয়নি গত আট বছরেও। আটাশ হাজার শিক্ষার্থীর শতবর্ষী এ প্রতিষ্ঠানে আবাসন সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে কলেজে গিয়ে জানা যায়, কারমাইকেল কলেজ ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালে ১০০ বছর পূর্র্তি পালিত হয়েছে। ২০১১ সালে ১৫ মার্চ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা পর কলেজ ক্যা¤পাসের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে কলেজের চারটি আবাসিক হল এক মাসের জন্য বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে তিন ছাত্রী হল চালু থাকলেও, ছাত্র হল চারটি চালু না থাকায় একদিকে যেমন চরম আবাসন সঙ্কটে পড়েছে কলেজটির হাজারো শিক্ষার্থী। অপরদিকে ব্যহত হচ্ছে কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ। ইতোমধ্যেই অব্যবহৃত এমএজি ওসমানী হল পরিত্যাক্ত হয়ে পড়েছে।

কারমাইকেল কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক ডিগ্রিসহ ১৮টি বিষয়ে সম্মান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর বিপরতীতে আবাসিক সুবিধার জন্য রয়েছে মাত্র সাতটি ছাত্রবাস। এর মধ্যে ছাত্রীদের জন্য তিনটি হল চালু রয়েছে। যার আসন সংখ্যা মাত্র ৭৫০টি। রাজা গোপাল লাল রায় (জিএল) ও কাশিম বাজার (কেবি) নামের দুই ছাত্রহল চালুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জিএল হোস্টেলটি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছাত্রদের বাকি চারটি আবাসিক ছাত্রাবাস। ফলে শতবর্ষে পদার্পণ করেও এখনো কাটেনি কলেজটির আবাসিক সঙ্কট। উল্টো দিন দিন এ আবাসিক সঙ্কট বেড়েই চলেছে। আর এ সুযোগে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠেছে ব্যক্তি মালিকানায় ছাত্রাবাস। শুধু পড়াশোনার পরিবেশ নয়, শিক্ষার্থীরা মোটা অংকের টাকা গুনেও পাচ্ছে না কাক্সিক্ষত সুযোগ সুবিধা। এছাড়া কাজ চলছে ১০০ আসন বিশিষ্ট নতুন একটি ছাত্র হোস্টেলও। প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক কম হলেও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা কম খরচে এসব হোস্টেলে অবস্থানের সুযোগ পাবে।

তবে হল চালু হওয়ার বিষয় অধ্যক্ষের উদ্যোগকেই প্রধান বলে মনে করছেন কলেজের ছাত্র সংগঠনগুলো। ছাত্র ইউনিয়নের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন বাপ্পি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। হল খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ক্যাম্পাসের সব ছাত্র সংগঠনই একমত। শুধু কলেজ প্রশাসন সাদিচ্ছার সঙ্গে যথাযথ উদ্যোগ নিলে তা খুলে দেওয়া সম্ভব।’ হল চালুর বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুজ্জামান ফিজার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আট বছর ধরে বন্ধ থাকা চারটি ছাত্রাবাস চালুর বিষয়টি জন্য অধ্যক্ষের উদ্যোগই যথেষ্ট। তিনি চাইলে পারেন।

কারমাইকেল কলেজের আশপাশের এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে নামে-বেনামে গড়ে উঠছে ছোট বড় সাতটি হোস্টেল। যেগুলোতে থাকা-খাওয়ার ব্যয় অনেক বেশি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাও সন্তোষজনক নয়। কলেজের বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ৩৫ শিক্ষার্থী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, শিক্ষার ব্যয় যাতে না বাড়ে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা হোস্টেলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও কলেজের হোস্টেলগুলো খুলে দেওয়ার হোক। কলেজটির আবাসন সঙ্কট নিরসন পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে দ্রুতই চালুর করার দাবি ছাত্র-ছাত্রীদের।

এদিকে কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আগে হলে সিট নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। হল পুনরায় খুললে সেটা ফিরে আসার ভয়ে দেখাচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে কোনো অযুহাতে ছাত্রবাসা বন্ধ রাখা ঠিক হবে না।

সঙ্কটসহ সার্বিক বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, আমি যোগদানের পর থেকেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ছাত্রাবাস চালুর বিষয়টি তদারকি করছি। আশা করি এই দুইটি ছাত্রাবাস চালুর মাধ্যমে আবাসন সঙ্কট কিছুটা হলেও নিরসন হবে। তিনি আরও জানান, হলের আসন বরাদ্দের ব্যাপারে দলীয় বিবেচনা নয় বরং মেধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

"