বিদেশি সবজি স্কোয়াশে হাসছে দুর্গাপুরের কৃষক

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ‘স্কোয়াশ’ সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষকরা। সবজির তালিকায় ‘স্কোয়াশ’ নতুন সবজি হিসেবে যোগ হওয়ায় অল্প খরচ ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় দ্বিগুন মুনাফা পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। এটি একটি বিদেশি জাতের সবজি। আঞ্চলিক নাম ‘স্কচ’ হলেও এর প্রকৃত নাম স্কোয়াশ। স্কোয়াশ অনেকটা দেখতে কাঁচা বাঙ্গি বা বড় শশা আকৃতির। এর স্বাদ মিষ্টি কুমড়োর মত। ভাঁজি ও মাছের সঙ্গে তরকারি হিসেবে রান্না খাওয়ার উপযোগী এবং সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ইতোমধ্যে ভোজন রসিকদের মাঝে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে এই নতুন সবজি।

দুর্গাপুর কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, ব্যাপক লাভজনক হওয়ায় ক্রমশই দুর্গাপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্কোয়াশের আবাদ। এ অঞ্চলের মাটি উর্বর হওয়ায় স্কোয়াশ সবজি চাষে আগ্রহ দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে। তাছাড়া সুস্বাদু এই সবজির চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। উচ্চ ফলনশীল ছোট দন্ডায়মান একটি স্কোয়াশ একটি গাছের উচ্চতা হয় ৪/৫ ফুট। পর্যায়ক্রমে একটি স্কোয়াশ গাছ থেকে ৫/৬টি ফল সংগ্রহ করা যায়। যা কম খরচে অধিক লাভজনক।

সরেজমিনে গত মঙ্গলবার উপজেলা কিসমত গণকৈড় ইউপির রাতুগ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষানী নার্গিস বেগম তার সাত কাটা জমিতে স্কোয়াশ আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার টাকা। স্কোয়াশ গাছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ফুল থেকে ফল ধরতে শুরু করেছে। আর ৪০-৪৫ দিনের মধ্যেই বাজারজাতকরণের উপযোগী হবে। এর আগে ক্ষেত থেকে সবজি তুলে বাজারজাত করে এ পর্যন্ত দুই দফায় সাড়ে ছয় হাজার টাকার ওপরে বিক্রি করেছেন। আরো প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। তবে নতুন সবজি হিসেবে ক্রেতাদের মাঝে স্কোয়াশের চাহিদা রয়েছে। পাশের উজানখলসী গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান তার ২০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ আবাদ করেছেন। অল্প সময়ে অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম খরচে স্কোয়াশ উৎপাদন করা যায়। তাছাড়া এক বিঘা জমিতে যে পরিমাণ কুমড়া আবাদে ফসল পাওয়া যায় তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুন স্কোয়াশ ফলন পাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। রহমান এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন।

দুর্গাপুর কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আশাদুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের মাটি খুবই উর্বর। যা স্কোয়াশ চাষে উপযোগী। তবে অন্যান্য ফসলের তুলনায় স্কোয়াশের উৎপাদন ও মুনাফা দুটোই বেশি। বর্তমানে চাষিরা স্বল্প পরিসরে চাষ করলেও স্কোয়াশ লাভজনক হওয়ায় আগামীতে ব্যাপকহারে চাষ হবে আশা তার। স্কোয়াশ সবজির এ এলাকায় নতুন। পরিচর্যা ও ফসল উৎপাদনে কৃষকের প্রাথমিকভাবে চাষ পদ্ধতিতে একটু সমস্যা হতে পারে। তাই স্কোয়াশ আবাদে প্রসার বাড়াতে কৃষি অফিস কৃষককে পরামর্শ ও সহায়তা দিবেন। দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকতা ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, স্কোয়াশ এ উপজেলায় নতুন সবজি হিসাবে এসেছে। আমরা এই সবজি চাষ করার জন্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করেছি। যেন আগামীতে এ স্কোয়াস দুর্গাপুরে ব্যাপক আকারে চাষ হয় এবং লাভজনক একটি সবজি বলে তিনি জানান।

"