বদরগঞ্জ ও শাহজাদপুরের ১৫২ প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

বদরগঞ্জ (রংপুর) ও শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

রংপুরের বদরগঞ্জে ১৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৫টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অপর দিকে শাহজাদপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৮৭টি ও সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে ৮১টি। আর গুরুত্বপূর্ণ এ পদগুলো শূন্য থাকায় তার প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থাসহ ছাত্র-ছাত্রীদের উপরও। প্রশাসনিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, প্রধান শিক্ষাক শূন্য রংপুরের বদরগঞ্জের ৬৫ বিদ্যালয়ে চলছে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে। তার ওপর ভারপ্রাপ্তদের মধ্যেও আবার কেউ কেউ অপর সহকারী দায়িত্ব দিয়ে রয়েছেন প্রশিক্ষণে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন যাবত রয়েছে শূন্য। কোন কোন বিদ্যালয়ে ২০০৭ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হয়নি। এ অবস্থায় ওইসব বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান।

উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বুজরুক হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে বর্তমানে রয়েছেন চারজন সহকারী শিক্ষক। এরমধ্যে একজন রয়েছেন মাতৃকালীন ছুটিতে। বর্তমানে সেখানে তিনজন শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান। ২০১৪ সালের ২৬ জুন থেকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াছিন আলী বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কাসেম আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক থাকায় অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে তাগিদ দেওয়া হলেও কোন কাজ হয়নি। ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র রিপন বাবু ও নাজিম উদ্দিন বলে, ‘হামার (আমাদের) স্কুলোত অনেক দিন থাকি হেড সারোক দেখি নাই। খালি (শুধু) তিনজন স্যার হামার ক্লাস নেয়।’ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতী খাতুন ও সাজেদুল ইসলাম বলে, ‘আগোত হেড সার থাকতে খেলাধুলা, গান-বাজনা হইতো। এখন কিছুই হয় না। দিনে দিনে স্কুলোত স্যারেরা কমি যাওচে। অ্যাতে লেখা পড়ার বেশি ক্ষতি হওচে।’

এদিকে রামনাথপুর ইউনিয়নের ঘাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও দুই বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। সরকারী শিক্ষক জবা রানী রায়কে দিয়ে চলছে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব। বর্তমানে তিনিও রয়েছেন অটিজম বিষয়ের একটি প্রশিক্ষণে। তিনি প্রশিক্ষণে যাওয়ার সময় আরেকবার ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন হাবিবুল্লাহ নামে অপর সহকারি শিক্ষককে। শিক্ষক হাবিবুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক কাজের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। একই অবস্থা দেখা গেছে রামনাথপুর ইউনিয়নের কিসমত ঘাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ‘আমি গত এক সপ্তাহ আগে বদরগঞ্জে যোগদান করেছি। প্রধান শিক্ষকদের পদ শূন্য বিদ্যালয়গুলোর তালিকা আগেই পাঠানো হয়েছে। এখন নতুন করে চাহিদাপত্র দেওয়া হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৭ সালের পর কোন সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতি হয়নি। এ ছাড়াও অনেক বিদ্যালয়ে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। তবে অতি শিগগিরই শূন্য পদের বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হবে।’

এদিকে শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, শাহজাদপুর উপজেলা সরেজমিন ঘুরে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য থেকে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো ২২৪টি যার মধ্যে পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫১, নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৮ এবং ১৫০০ প্রকল্পের প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঁচটি। একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ বৃহত্ত উপজেলার প্রাথমিক স্তরে মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৭৩ হাজার ৯৭৮ জন। এ উপজেলায় অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদ ২২৪টি। সেখানে কর্মরত আছেন ১৩৭ জন। আর পদ শূন্য রয়েছে ৮৭ টি। অপরদিকে অনুমোদিত এক হাজার ২০২টি সহকারি শিক্ষকের পদের মধ্যে কর্মরত আছেন এক হাজার ১২১ জন। আর পদ শূন্য রয়েছে ৮১ টি। এটিও একটি বৃহৎ শূন্যতা বলেই বিবেচিত হওয়ার বিষয়। গুরুত্বপূর্ণ এ পদ গুলো শূন্য থাকার পাশাপাশি শিক্ষিকাদের জন্য রয়েছে।

শূন্য পদগুলোর কারলে শিক্ষা ব্যবস্থায় কি সমস্যা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফজলুল হক জানান, ‘বৃহৎ এ শাহজাদপুর উপজেলায় ৮৭ টি প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ৮১টি সহকারি শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বছরের তিন মাস ইতোমধ্যেই পার হতে চলেছে। অতি দ্রুত এখানে শিক্ষকের প্রয়োজন। আপনাদের লেখালেখির মাধ্যমে আমাকে সেই সহযোগিতা করুন।

"