বিষমুক্ত টমেটো ফলিয়েও দাম নিয়ে হতাশ গফরগাঁওয়ের কৃষক

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

শেখ মো. ফুয়াদ, ময়মনসিংহ

ক্ষেতের পর ক্ষেতে লাল টুকটুকে পাকা টমেটো। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিভিন্ন গ্রামের বালুচরের বহুগুণের টমেটো। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দেড় শতাধিকহেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ। স্থানীয় কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে গত কয়েক বছর ধরে কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় এখন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে উৎপাদিত অধিকাংশ সবজিই বিষমুক্ত। এই বিষমুক্ত সবজি ফলিয়েও অল্প দামের কারণে হতাশ চাষিরা।

সরজেমিনে জানা যায়, উপজেলার দত্তের বাজার, টাঙ্গাব ও চরআলগী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে ইতিমধ্যে বদলে গেছে অন্তত চার শতাধিক কৃষকের ভাগ্য। এখন উপজেলার দিগণন্ত জুড়ে লাল টমেটো ক্ষেতের বিস্তার। কৃষিজমিতে টমেটোসহ অন্যান্য সবজির চাষে ব্যাপক সাফল্য আসায় দিনদিন এগুলোর দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এসব ইউনিয়নে উৎপাদিত টমেটো রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বর্তমানে উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়নের বাখালী, বাশিয়া ও টাঙ্গাব গ্রামে, পাঁচবাগ ইউনিয়নের চরশাঁখচূড়া, খুরশিদ মহল, গাভীশিমুল গ্রামে চরআলগী ইউনিয়নের বালুয়া কান্দা, জয়ারচর ও চরআলগী গ্রামে এবং দত্তের বাজার ও নিগুয়ারী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বালুচরে ব্যাপকভাবে টমেটো উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষকরা জানান, এখন টমেটো বিক্রি প্রায় শেষের দিকে। স্থানীয় কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে গত কয়েক বছর ধরে কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়ায় এখন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে উৎপাদিত অধিকাংশ সবজিই বিষমুক্ত। এ এলাকার কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি পাশ্ববর্তী গাজীপুরের মাওনা ও চান্দনা চৌরাস্তাসহ কয়েকটি আড়ত হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হচ্ছে। তবে দেশের বিভিন্ন জেলায় টমেটোর দামে হতাশ কৃষকরা।

বামনখালী গ্রামের কৃষক মুর্শিদ মিয়া। এবার তিনি ১০ একর জমিতে টমেটো চাষ করেন। এতে খরচ হয় প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তিন কিস্তিতে ক্ষেত থেকে টমেটো তুলে প্রায় ৮ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। এখন টমেটো বিক্রি প্রায় শেষ। এছাড়াও বাজার দর কমে যাওয়ায় টমেটো তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া টাঙ্গাব, বামনখালী, বটতলা তিন গ্রামের অন্তত দেড় শতাধিক কৃষক টমেটো চাষ করেছেন। এছাড়া চরআলগী, দত্তের বাজার ও পাঁচবাগ ইউনিয়নের আরো অন্তত আড়াই শতাধিক কৃষক টমেটো চাষ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার এসএস ফারহানা হোসেন জানান, টাঙ্গাব, চরআলগী, নিগুয়ারী, দত্তের বাজারসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। টমেটোর বাম্পার ফলন গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি বাম্পার ফলন হওয়ায় টমেটো চাষিরাবেশ লাভবান হয়েছেন।

টাঙ্গাব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোফাজ্জল সাগর জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই চর এলাকায় এ বছর সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে টাঙ্গাব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পুলের ঘাট বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটরি রাস্তা কাঁচা বলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শাকসবজি বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন তারা।

"