চরভদ্রাসন মৎস্য অফিস

একজন কর্মকর্তা দিয়ে চলে ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

সরকারি বিধি মোতাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মোট পাঁচটি পদ থাকলেও মাত্র একজন দিয়েই চলছে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার মৎস অফিসের কাজ। চারটি পদই শূন্য রয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে। এর ফলে স্থবির হয়ে গেছে ইলিশ রক্ষাসহ সকল কার্যক্রম। গতকাল শনিবার চরভদ্রাসন উপজেলার মৎস কর্মকর্তা মালিক তানভীর হোসেনের সঙ্গে কথা বলে তা জানা গেছে।

মালিক তানভীর প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমিসহ একজন সহকারী মৎস কর্মকর্তা, একজন অফিস সহকারী, একজন ক্ষেত্র সহকারী ও একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা থাকলেও এখন কেউ নেই। বাকী চারজনের কাজ আমাকেই করতে হচ্ছে। কোনো কাজই সঠিকভাবে করতে পারছি না। ফলে ২০১৭/১৮ অর্থ বছরের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ)-র লক্ষমাত্রা অর্জন দূরহ হয়ে যাবে। বিষয়টি আমি গত ২ জুলাই ২০১৭ লিখিত ভাবে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ফরিদপুর সদরের জেষ্ঠ মৎস কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, ‘চরভদ্রসন উপজেলা মৎস অফিসের শূন্য পদে লোক নিয়োগের জন্য অনুরোধ জানিয়ে পুনরায় মৎস অধিদপ্তরে জানানো হবে।

অফিস সূত্র জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে কোনো অফিস সহায়ক নেই, ২০১৭ এর ৩১ জুলাই অফিস সহকারী অবসরে গেলে তার স্থলে নতুন কেউ যোগদান করে নাই। ক্ষেত্র সহকারী নেই বিগত তিন বছর ধরে। মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় একজন সহকারী মৎস কর্মকর্তা যোগদান করলেও গত পহেলা ফেব্রুয়ারি বদলি জনিত কারণে তিনিও চলে যান। শুধুমাত্র লোকবলের কারণে এখানে ইলিশ রক্ষা, জেলে তালিকা তৈরিসহ সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানান উপজেলার মৎস কর্মকর্তা। ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন মোল্যা বলেন, চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে মৌসুম অনুযায়ী প্রচুর ইলিশ ধরা পরে। মৎস দপ্তরের দৃশ্যত কোনো কার্যক্রম না থাকায় প্রচুর পরিমাণে জাটকা ইলিশ নিধন করছে অবৈধ মৎস শিকারীরা। মৎস কর্মকর্তা তানভীর জাটকা ইলিশ নিধনের বিষয়টি স্বীকার করে আরও জানান, লোকবল না থাকায় নদীতে কোনো অভিযান পরিচালনা করা যায়নি। তবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চরহাজিগঞ্জ বাজারে মাত্র একবারই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

"