মামলার হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার এসআই এএসএম তৌফিক পারভেজের বিরুদ্ধে মাদকের মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি পুলিশের পোশাক ও সাদা পোশাকে চাঁদা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই এসআই।

উপজেলার বখতিয়ারপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম শফি নামে একজন অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার বখতিয়ারপুরে সাদা পোশাকে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে আটক করার চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয়রা জড়ো হলে এসআই তৌফিক পালিয়ে যান। পরে রাতে পুলিশের পোশাক পড়ে ফোর্স নিয়ে ওই ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালান এসআই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাড়িতে অবৈধ কিছু না পেয়ে মাদক মামলার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে মামলা থেকে বাঁচতে ওইদিন রাতেই শফিকে ছোটভাই রিপন ও স্থানীয় গ্রামপুলিশ (চৌকিাদর) বজলুর উপস্থিতি ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আপোস করা হয়।

দেরিপুর গ্রামের ইছব আলী নামে আরেক ব্যক্তির অভিযোগ, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার দিকে আলীপুর গ্রামের ফজলু শাহের ছেলে কীটনাশক ব্যবসায়ী জামরুলকে আটক করে এসআই তৌফিক। দুর্গাপুর থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে শ্যামপুর মোড়ে জামরুলের থামিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মাদক মামলার ভয় দেখান। এজন্য রাত ৭টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত ওই এলাকার বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ২৫ হাজার টাকা রফদফা। কিন্তু টাকা হস্তান্তের সময় কিছু টাকা কম থাকায় জামরুলকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরিবারের সদস্যদের সকালে থানায় আসতে বলেন। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শ্যামপুর গ্রামের আমজাদসহ তারা টাকা নিয়ে গেলে এসআই তাদের দেরি করতে বলেন। এরই মধ্যে ঘটনাটি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে গেলে, প্রথমে ৩ পিচ ইয়াবা, পরে ১৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করার মামলা দিয়ে চালা করে দেন এসআই তৌফিক। ইছব আলী আরও জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে এসপিকে জানানর প্রক্রিয়া চলছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআই তৌফিক পারভেজের সঙ্গে কথা বলা হলে দাবি করে তিনি বলেন, চাঁদা আদায়ের অভিযোগটি মিথ্যা। তবে মঙ্গলবারের ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন, শফি ওই এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সে নিজেও মাদক সেবন করে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ইয়াবা ট্যাবলেট কেনার সময় দেখে তাকে অনুসরণ করা হয়। তবে বিষয়টি বুঝতে পেরে কোথাও ট্যাবলেটগুলো ফেলে দিয়েছে। তারপর তাকে আটক করে শরীরের তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে শফিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এনিয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলম বলেন, এসআই তৌফিক পারভেজের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ আমার জানা নেই। তবে গত মঙ্গলবারের ঘটনাটা শুনেছি। শ্যামপুরের ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই দিন আমি থানায় ছিলাম না। সে কারণে আমি ওই ঘটনার কিছু জানি না। তবে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

"