আলুর বাম্পার ফলনেও স্বস্তি নেই চাষিদের

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম না থাকায় দুঃচিন্তায় পড়েছেন আলু চাষিরা। প্রান্তিক কৃষকরা মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ব্যাপক আলুর চাষ করলেও আলুর দাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। আলুর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থা ও বিদেশে রপ্তানির জন্য সরকারে সহায়তা চাইছে আলু চাষিরা।

সরেজমিনে ফুলবাড়ীর বিভিন্ন গ্রামের মাঠ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলার মানুষ সাধারণত রবি শস্যের উপর নির্ভরশীল। তাই প্রতিবারের মত এ বছরেও কৃষকরা ব্যাপক হারে আলুর চাষ করেছে। এ বছর কোনো জমি পতিত নেই এ উপজেলায়। বিস্তৃর্ণ জমিতে কৃষকরা আলুর ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকুল থাকায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তরে ফলন নিয়ে কৃষকদের মাঝে সন্তুষ্টি দেখা দিলেও আলুর দাম না থাকায় হতাশায় পড়েছে কৃষকরা। বেশির ভাগ কৃষক ধারদেনা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আলুর আবাদ করেছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বিঘা জমিতে এস্টারিজ, রোসাগোল বীজ দিয়ে ৯০ থেকে ১০০ মণ ফলন হয়। মণ প্রতি প্রায় ৩৬০-৪০০ টাকা উৎপাদন খরচ পড়লেও বর্তমানে আলুর বাজার দর মণ প্রতি ২৪০-২৬০ টাকা পাচ্ছেন কৃষকরা। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা। খেত থেকে আলু উত্তোলনের খরচ মেটাতে অনেক কৃষক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আলুর উৎপাদন খরচ উঠাতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের তৈয়ব আলী জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রায় ১১ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। ভাল দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি বিঘা আলুর জমিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় আলুর ফলন কমপক্ষে ৮০ উপরে ১২০ মণ পর্যন্ত আসে। তিনি আরও জানান, সরকার যদি আলু বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ করে দেয় তাহলে আলু চাষিরা লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে পারে।

বাহনপড়ি গ্রামের কৃষক তপন কুমার রায়, ঈসা মিয়া, মূসা আলী, আলম মিয়া জানান, আমরা অনেক পরিশ্রম করে আলুর আবাদ করেছি। তাই এ বছর ফলনও ভালই হয়েছে। কিন্তু আলুর দাম না থাকায় এবছর কৃষকের লোকসান গুনতে হবে। যে সব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই তারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আলু চাষ করেছে। যদি আলুর দাম না বাড়ে তাহলেজেলার সব কৃষকের কপালে দুঃখ আছে। তারা আরও জানান, আমাদের একমাত্র ভরসা সরকার। যদি সরকার আলুর বাজার মূল্য নির্ধারণ করে দেয় তাহলে আমাদের মত কৃষকের লোকসান গুনতে হবে না। তাদের দাবি এ উপজেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য অন্তত একটি হিমাগার ও প্রতি বছের থেকে সরকার কুড়িগ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে আলু সংগ্রহ করে এবং তার বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ বছর উপজেলায় প্রায় এক হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু চাষে কৃষি বিভাগ সব সময় মাঠে গিয়ে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছে। তবে আলুর দাম না কৃষকরা দু:চিন্তায় পড়েছেন। যদি সরকার আলু বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করে তাহলে হয়তো ন্যায্য মূল্য পেয়ে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং পরবর্তীতে আলরু চাষ অব্যাহত রাখবে।

"